রুহুল আমিন,স্টাফ রিপোর্টার
যে রংপুরের মাটিতে একসময় অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদের ভাষা তৈরি হয়েছিল, সেই মাটিতেই অধিকার, সমতা ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছে জাতীয় যুবশক্তি। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, আর সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—সংগ্রামের সেই দীর্ঘ ইতিহাসকে নিজেদের পথচলার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
জাতীয় যুবশক্তি, রংপুর মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাওয়াক্কীল বিল্লাহ শাহ ফকিরের এক শুভেচ্ছা বার্তায় এ প্রত্যয়ের কথা জানানো হয়েছে।
শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, রংপুরের ইতিহাস কেবল একটি জনপদের ইতিহাস নয়; এটি প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সংগ্রামেরও ইতিহাস। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি এ অঞ্চলের মানুষের চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত। ফকির মজনু শাহ, ক্ষুদিরাম ও শহীদ শঙ্কু সমাজদার ও সর্বশেষ গণ অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাইদ এর মতো সংগ্রামী মানুষের স্মৃতিও সেই চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই আদর্শিক ধারার কিঞ্চিৎ বাহক হিসেবে জাতীয় যুবশক্তি, রংপুর মহানগর শাখা গঠিত হয়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভ্রমের বলিদান দেওয়া মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠক ও সংগঠনগুলোর প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বার্তায় আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ মানুষকে অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপসহীন থাকার শিক্ষা দিয়েছে। সেই ধারারই আরেকটি অধ্যায় হিসেবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও রাজনৈতিক সংগঠনের মানুষ অংশ নিয়েছেন। আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
জাতীয় যুবশক্তির পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকারই কঠিন সময়ে বাংলাদেশকে পথ দেখাতে পারে। মানুষের সমতা, অধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জননিরাপত্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বগৌরব রক্ষাকে সংগঠনটির দায়িত্ব ও লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে রংপুরের স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের প্রতি জাতীয় যুবশক্তির রাজনৈতিক ও বাংলাদেশপন্থী কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।




