রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
তিস্তার পানিতে গোসল করতে নেমেছিলেন ২২ বছরের আরমান ইসলাম। মুহূর্তেই স্রোতের টানে হারিয়ে যান তিনি। তিন দিন ধরে নদীতে চলেছে খোঁজ। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিকেলে নদীর ভাটিতে ভেসে ওঠে আরমানের নিথর দেহ।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরমান ইসলাম ওই গ্রামের হালিমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার দুপুরে কয়েকজনের সঙ্গে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নামেন আরমান। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেন। ডুবুরি দল এসে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালালেও পানির ঘোলাটে অবস্থা ও তীব্র স্রোতের কারণে আরমানের সন্ধান পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে অভিযান স্থগিত করা হয়।
তিন দিন পর শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে নদীর ভাটিতে স্থানীয় কয়েকজন পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় আরমানের পরিবারকে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নিখোঁজ হওয়ার পরপরই আরমানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয়দের দাবি, তিস্তায় গোসল করতে গিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।



