মধ্যনগর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের পলমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বরাদ্দকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে “পলমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ” প্রকল্পের জন্য সরকার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে সুজন মিয়া সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করলেও বাস্তবে রাস্তার কোনো কাজই করা হয়নি।
পলমাটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয় থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত সড়কে এক টাকারও মাটি কাটা হয়নি। এমনকি সরকার যে এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে, সে বিষয়েও এলাকাবাসীকে কখনো অবহিত করা হয়নি। তাদের ভাষ্য, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সহজে চলাচলের সুযোগ পেতেন। এদিকে, প্রকল্পের বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অভিযুক্ত সুজন মিয়া প্রথমে ওই নামে কোনো প্রকল্পে বরাদ্দ হয়নি বলে দাবি করেন।
পরে উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত প্রকল্পের নথি প্রদর্শন করা হলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তিনি “বেশি বাড়াবাড়ির পরিণাম ভালো হবে না” বলে হুমকি দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পলমাটি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন, তাদের কাছে থাকা সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে “পলমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ” প্রকল্পে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।
নথিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং জেলা প্রশাসকের অনুমোদিত স্বাক্ষরও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। ইতোমধ্যে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, স্কুলের রাস্তা নির্মাণ হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপকৃত হতেন। কিন্তু কাজ না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। তারা সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সুজন মিয়া প্রথমে প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ হয়নি বলে দাবি করেন। পরে সরকারি নথি দেখানো হলে তিনি সাংবাদিকদের দোষারোপ করেন এবং অভিযোগ অনুযায়ী হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও স্থানীয়ভাবে অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তার মাধ্যমে কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” গ্রামবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রাস্তা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হোক।



