শেখ শামীম: সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় শতাধিক উপকারভোগী পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাবলম্বী করে তোলা এবং টেকসই জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পের আওতায় বাছাইকৃত একশো জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে দুটি করে ছাগল, পাঁচটি করে ফ্লোরম্যাট এবং গৃহনির্মাণের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উপকারভোগীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রদত্ত এই সম্পদ যেন যথাযথভাবে ব্যবহার করে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভাষা চর্চা কার্যক্রম চালুর বিশেষ উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. অসীম কুমার দাস, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকার, কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল কুমার সরকার, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হক পাঠানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুধীসমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সরকারি এই সহায়তা পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করে এটিকে তাদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



