কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভার পশ্চিম শান্তিবাগ মহল্লায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা এবং সড়কের পাশে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ফলে স্থায়ী সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) কেন্দুয়া পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত পশ্চিম শান্তিবাগ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। দিনের পর দিন পানি জমে থাকার কারণে এলাকায় মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাবের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যা সমাধানে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে পৌর বিধি না মেনে কয়েকটি স্থানে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণকে দায়ী করেছেন তারা।
বিশেষ করে, মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইকবাল মাস্টারের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এরআগেও ওই ভবনের নির্মাণকাজ নিয়ে অভিযোগ উঠলে তৎকালীন ইউএনও মো. রিফাতুল ইসলাম কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং ওই শিক্ষককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন। বর্তমান ইউএনও সানজিদা চৌধুরী যোগদানের পর পুনরায় সেই ভবনের কাজ শুরু করা হয়েছে। অবৈধ এসব স্থাপনার কারণে ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল মাস্টার। তিনি বলেন, ‘আমি পৌর বিধি মেনেই বাসার কাজ করছি। পৌরসভায় প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়া আছে। প্রয়োজনে পৌরসভায় যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পারেন।’
এ বিষয়ে কেন্দুয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ওই ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, এরআগেও একই বিষয়ে অভিযোগ ওঠায় ইকবাল মাস্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
সার্বিক বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, ‘এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। খুব শিগগিরই সরেজমিনে তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর জোর দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত পশ্চিম শান্তিবাগ এলাকা পরিদর্শন করে। পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ড্রেন নির্মাণ এবং অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ দূর হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে পৌরসভার সড়ক সম্প্রসারণের পথও সুগম হবে বলে মনে করছেন শান্তিবাগ মহল্লার বাসিন্দারা।



