দেওয়ান আমিনুল ইসলাম, সিনিয়র রিজিওনাল করেসপনডেন্ট, ইউএস অ্যান্ড আমেরিকাস | The Mail BD
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের অক্টোবর মাসের ভিসা বুলিটিনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন বা Employment-Based (EB) ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশের আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে নতুন কাট-অফ ডেট। এর ফলে একদিকে কিছু আবেদনকারী ভিসা প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির সুযোগ পেলেও অন্যদিকে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের একটি অংশকে অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও দীর্ঘ সময়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত সর্বশেষ ভিসা বুলিটিন অনুযায়ী, EB-2 ও EB-3 ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময়সূচি অন্যান্য দেশের তুলনায় আলাদা রয়েছে।
EB-2 ও EB-3 ক্যাটাগরিতে নতুন কাট-অফ ডেট
অক্টোবর ২০২৬-এর Final Action Dates অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশের জন্য:
– EB-2: ১ জানুয়ারি ২০২৫
– EB-3: ১৫ মে ২০২৪
– EB-3 Other Workers: ১ জানুয়ারি ২০২২
অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে যাঁদের Priority Date নির্ধারিত কাট-অফ তারিখের আগে, তাঁরাই ভিসা নম্বর প্রাপ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারবেন। তবে অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতা ও প্রক্রিয়াও পূরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন অর্থবছরে ভিসার সংখ্যা ও বার্ষিক সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পেছানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হতে পারে।
৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশে পরিবর্তন
এদিকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হয়েছিল, সেটিও পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২৮ আগস্ট ২০২৬-এ হালনাগাদ করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২১ আগস্ট আদালতের আদেশের পর ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী স্থগিতাদেশের বাধা প্রত্যাহার হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পাবেন। তাঁদের নিয়মিত যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কনস্যুলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ঢাকায় ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ থেকে সব অভিবাসী ভিসা ক্যাটাগরিতে দুই দিনের প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (NVC) নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী দূতাবাসে উপস্থিত হতে হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই, আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। অন্যদিকে, F-1 শিক্ষার্থী ভিসা এবং B1/B2 ভ্রমণ ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত নয়। তবে এসব ভিসার নিজস্ব আবেদন, সাক্ষাৎকার ও যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়ম বহাল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে কী হবে?
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসে অবস্থানরত যেসব ব্যক্তি কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই USCIS-এর মাধ্যমে Adjustment of Status (Form I-485) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে ভিসা বুলিটিনের Final Action Date গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রয়োজনীয় ভিসা নম্বর প্রাপ্য না হলে চূড়ান্ত অনুমোদন অপেক্ষমাণ থাকতে পারে। তবে রিট্রোগ্রেশন মানেই আবেদন বাতিল হওয়া বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। Priority Date, আবেদনকারীর ক্যাটাগরি এবং সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা প্রাপ্যতার ওপর পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসের ভিসা বুলিটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য তাই নিজ নিজ Priority Date, ভিসা ক্যাটাগরি এবং USCIS-এর নির্দেশনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।





