স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ
হাম পরিস্থিতিকে ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা ও পরিস্থিতি তৈরীর কারণে ইউনুস সরকারের বিচারের দাবি যশোর বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সারা দেশ ব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেবাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলার উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় যশোরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা ও জেলা সম্পাদক তসলিম-উর-রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা ও জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, নাজিম উদ্দিন, জেলা কমিটির অন্যতম নেতা প্রফেসর ইসরারুল হক,সখিনা বেগম দিপ্তী,বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ শহর শাখার অন্যতম নেতা দয়ানন্দ হলদার , সদর উপজেলা কমিটির অন্যতম নেতা আসাদুজ্জামান পিল্টু প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলার অন্যতম নেতা পলাশ বিশ্বাস।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণে দেশে ভয়াবহ হাম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, টিকার সংকট এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-তে ছেদের ফলে ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং প্রতিদিন নতুন করে দেড় থেকে দুই হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফ ও গ্যাভির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করলেও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সময়মতো সেই উদ্যোগ না নিয়ে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে টিকা কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় টিকার মজুত শেষ হয়ে যায় এবং নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে বড় ধরনের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে ২০২৫ সালে হাম টিকাদানের কভারেজ নেমে এসেছে ৫৭ দশমিক ১ শতাংশে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
অথচ হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন। তারা আরও অভিযোগ করেন, শিশুদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে ভিটামিন-এ বিতরণ কর্মসূচি বন্ধ থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকট ও যথাযথ চিকিৎসা সুবিধার অভাবেও শিশুমৃত্যু বাড়ছে বলে তারা দাবি করেন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন আমাদের যশোর সদর হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আই সি ইউ নেই যার ফলে হার্টের রোগীর সহ যে সব রোগীর পূর্ণাঙ্গ আই সি ইউ সাপোর্ট প্রয়োজন তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।
ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় পথের মধ্যে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। সেই জন্য পূর্ণাঙ্গ আই সি ইউ চালু করতে হবে ও দশ বেডের কিডনি ডায়ালোসিস সেন্টার দ্রুত চালু করতে হবে। সমাবেশ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম-এর বিচারের দাবি জানানো হয়।
একইসঙ্গে হাম পরিস্থিতিকে “জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি” ঘোষণা করে দ্রুত টিকা সংগ্রহ ও সারাদেশে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানান এর আগে একই দাবিতে বেলা ১২ টার সময় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।


