নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর, নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূলহোতা ও প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ভিকটিমের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ও লুণ্ঠিত নগদ টাকার অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন- শিশির আহম্মদ তালুকদার রাতুল (২২)। সে পূর্বধলা থানার শালদিঘা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মো. শরিফ হোসেন রওশান (২০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম আবর্তনের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া থানার মল্লিকপুর শুনই গ্রামে।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিরে মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। এরআগে, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে রওশান নেত্রকোনা সদর থানাধীন নতুন বাইপাসের উদ্দেশ্যে সিএনজি যোগে রওনা করেন। পথিমধ্যে ভুলবশত তিনি পূর্বধলা থানার শালদিঘা এলাকার অজ্ঞাত স্থানে নেমে যান। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ত্রিমোহনীর দিকে যাওয়ার সময় রাত আনুমানিক ৭টার দিকে শালদিঘা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন নেত্রকোনা-পূর্বধলা চৌরাস্তাগামী পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছালে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি।
জানা যায়, প্রথমে দুজন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী রওশানের পথরোধ করে চড়-থাপ্পড় ও কিলঘুষি মারে। এরপর পিঠে ধারালো চাকু ধরে ভয় দেখিয়ে রাস্তা থেকে পাঁচশো গজ দূরে নির্জন খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও একজন ছিনতাইকারী তাদের সাথে যোগ দেয়। তিনজন মিলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পকেটে থাকা নগদ চার হাজার ৫৬০ টাকা কেড়ে নেয়। এরপর জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনের বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে প্রথমে ১০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে বিকাশ থেকে আরও দেড় হাজার টাকা লোন (ঋণ) নিয়ে এগারো হাজার ৫০০ টাকা ছিনতাইকারীদের বিকাশ নম্বরে সেন্ট মানি করে নেয়।
এরপর তারা শিক্ষার্থীর ২২ হাজার টাকা মূল্যের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। টাকা ও মোবাইল নেওয়ার পর ছিনতাইকারীরা শিক্ষার্থীর ফেসবুক আইডি চেক করে জানতে পারে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তখন তারা রওশানকে ‘জুলাই যোদ্ধা’, ‘শিবির’ ও ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালিগালাজ করে পুনরায় ব্যাপক মারধর করে।
একপর্যায়ে মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও অন করে তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা, আগের শেখ হাসিনা সরকার ভালো ছিল’ বলে স্বীকারোক্তি দিতে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে তাকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ছিনতাইকারীরা। পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে ওই শিক্ষার্থীর চরম মানহানি করা হয়।
পুলিশের তৎপরতা ও আসামি গ্রেফতার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাবি শিক্ষার্থী নিজে বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় অজ্ঞাতনামা তিন-চার জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল রাহিদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহের চরপাড়া থেকে প্রধান আসামি রাতুলকে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন এবং ছিনতাই হওয়া চার হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত কর্তৃক রিমান্ড মঞ্জুর সাপেক্ষে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


