লেখা পড়া শেষ করে চাকরির জন্য আর বসে নেই খাগড়াছড়ির নারীরা।
তারা এখন এককজন সফল নারী উদ্যোক্তা। নিচ্ছেন ব্যবসাসহ নানান উদ্যোগ। খাগড়াছড়ির নারী উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন স্বল্প সুদে বা সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণসহ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।
নারী মানে ঘরের রান্না-বান্নার কাজ আর ছেলে-মেয়েদের লালন-পালন করা, সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন খাগড়াছড়ির নারী উদ্যোক্তারা। সুযোগ পেলে নারীরাও করতে পারেন ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কাজ।
খাগড়াছড়িতে এখন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন নারী উদ্যোক্তা বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। অনেকেই করছেন কাপড়ের ব্যবসা আর অনেকেই নারীদের বিভিন্ন অলংকার ও পাহাড়ী নারীদের পরিধেয় বস্ত্র পিনোন হাদীর ব্যবসা করছেন। এই কাজে অনেকেই সফলতাও অর্জন করেছেন। তবে তাদের আরো এগিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন বলে দাবী তাদের।
খাগড়াছড়ির নারী উদ্যোক্তা ফিউশন মাঠ এর স্বর্তাধিকারী তেজশ্রী চাকমা, ফ্যাশন কোট এর স্বর্তাধিকারী বেবি চাকমা, হীরা ফ্যাশন এর স্বর্তাধিকারী হীরা চাকমা-এসব নারী উদ্যোক্তারা জানান, খাগড়াছড়ির অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তারা শিক্ষিত, কারণ তারা পড়াশুনার পরে চাকরির পিছনে না ছুটে ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এছাড়াও নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছেন। এই নতুন পুরাতন মিলে এক সাথে কাজ করতে পারলে উদ্যোক্তাদের যে কমিউনিটি আছে, এই বন্ডিংটা আরো শক্ত করতে পারবেন।
তবে খাগড়াছড়ির নারী উদ্যোক্তাদের দেখে সফল মনে হলেও অনেকেই এখনো নিজের অবস্থা থেকে সফল হিসেবে মনে করেন না। তাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।
অনেকেই বছরে ২/১ টা প্রশিক্ষণ পেলেও অনেকে তা পান না। এছাড়া তারা খাগড়াছড়ির বাহিরে গিয়ে প্রোডাক্ট সোর্সিং করতে পারেন না।
তাদের দাবী সরকারের সহযোগিতা বা সহজ শর্তে ঋণ পেলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
খাগড়াছড়ির মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুস্মিতা খীসা বাসস’কে বলেন, তিনি খাগড়াছড়ির নারীদের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। নারীদের সেলাই, বেত দিয়ে ব্যাগ বানানোসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেন।
আর নারী উদ্যোক্তাদেরও নিয়ে কাজ করেন। যদি কোন নারী উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কাজ থেকে ঋণ চান তাহলে ঋণ দিয়ে তাদের সহযোগিতা করা হবে। এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫ নারীকে সম্মাননা দিচ্ছে মহিলা অধিদপ্তর।



