স্টাফ রিপোর্টার:
দেশব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে কৃষকদের ফসল উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার প্রতিটি কৃষককে ফুয়েল কার্ডের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে সহায়তার জন্য ভিড় করছেন কৃষকরা।
এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফুয়েল কার্ডের জন্য পূরণকৃত ফরম জমা নেওয়ার সময় ‘অনলাইন খরচ’ দেখিয়ে প্রতি কৃষকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করেছেন।
টাকা না দিলে ফরম গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া, জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের রানা এন্টারপ্রাইজ ও কাওয়ামারা এলাকার আলমের দোকানসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে ফরম জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এর মাধ্যমে চরাঞ্চলের প্রায় ২০০ জন কৃষকের কাছ থেকে মোট প্রায় ২০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আলম মিয়া বলেন, “আমি কিছুই জানি না। আমার দোকানে ফরম ও টাকা জমা দিতে বলা হয়েছিল।
আমি সেগুলো সংগ্রহ করে আবার কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। টাকা নেওয়ার কারণ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না।” রানা এন্টারপ্রাইজের আব্দুল গণি মিয়া জানান, “এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। আমার দোকানের কর্মচারী সাকোয়াতের মাধ্যমে ফরম জমা নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুয়েল রানা বলেন, “আমি ওইভাবে টাকা নেইনি। অনেক কৃষক ফরম পূরণ করতে পারেন না, তাই ফরম কেনা ও পূরণের জন্য ২০ থেকে ৩০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।” এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



