নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের ইটনা ও সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পৃথক দুটি ঘটনায় দায়ের করা হত্যা এবং হত্যাচেষ্টা মামলার পাঁচজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিন, দিবাগত রাত এবং দুপুরে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪, সিপিসি-২ (কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প)।
র্যাব জানায়, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর আইয়ুব আলী (৬৮) হত্যা মামলার চারজন মূল আসামিকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- মো. সাব্বির হোসেন (২২), মজিবুর রহমান (৫৫), মো. সজিব মিয়া (২৬) ও শাহ আলম (৫২)। তারা সকলের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।
নিহত আইয়ুব আলীর বোনের জমির মালিকানা নিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামিদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইটনা থানার মধ্যগ্রামে মুরগির খামারে মুরগি ক্রয় করার সময় আসামিরা আইয়ুব আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তাকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত আইয়ুব আলীর ছেলে কামরুল হাসান বাদী হয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর ইটনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিরা গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে র্যাব-১২, সিপিএসসি, বগুড়ার সহায়তায় বগুড়ার শেরপুর থানাধীন খানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি জাহেদকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে র্যাব। আজ (রবিবার) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সদর থানাধীন নিয়ামতপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সদর উপজেলার তেরহাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু কালাম ও তার পরিবারের সাথে প্রতিবেশী জাহেদ ও অন্যান্য আসামিদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জেরে গত ১১ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবু কালামের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আসামিরা পরিবারের সদস্যদের শ্লীলতাহানিসহ এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
হামলায় আবু কালাম (৪৬) গুরুতর আহত হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে ইকরামুল হাসান অনিক (১৮) বাদী হয়ে গত ১২ মার্চ সদর থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১৪, সিপিসি-২ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত পাঁচ জন আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
