নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঞ্চল্যকর ছয় বছরের শিশু ফাতেমা খাতুন হত্যা এবং সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ঘরের বেড়া ভেঙে ঘুমন্ত কিশোরীকে ধর্ষণের পৃথক দুটি মামলায় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিশু ফাতেমা খাতুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আব্বাস আলী (৩০) এবং সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. আব্দুর রহমান (২০)।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, গতকাল (শনিবার) অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বাড়ির পাশে খেলছিল ছয় বছরের শিশু ফাতেমা খাতুন। এ সময় প্রতিবেশী মো. আব্বাস আলী তাকে জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী বাজারে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পরও শিশুটি বাড়িতে না ফিরলে পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরদিন ১২ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ফাতেমার চাচা বাড়ির পাশের ভুট্টা ক্ষেতে শিশুটির লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা শিশু ফাতেমার গলায় নাইলনের কালো সুতা পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে এবং পরিচয় গোপন করতে তারা ফাতেমার পরনের পায়জামা ও জুতা আগুনে পুড়িয়ে তার গলিত অংশ শিশুটির মুখমণ্ডল ও গলায় লেপ্টে দেয়, যাতে লাশ বিকৃত হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১২ এপ্রিল নিহত ফাতেমার মা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অবশেষে গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানার কলেজপাড়া চৌরাস্তা এলাকা থেকে এ মামলার প্রধান আসামি আব্বাস আলীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাবের দ্বিতীয় অভিযানটি ছিল সিরাজগঞ্জের চাঞ্চল্যকর একটি ধর্ষণ মামলার আসামিকে ঘিরে। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুপুর দুইটার দিকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে এক নারী তার কিশোরী কন্যাকে বাড়িতে একা রেখে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বাবার বাড়িতে যান।
এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী যুবক মো. আব্দুর রহমান ওইদিন দিনগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে বসতবাড়ির ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই কিশোরীর হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
নির্যাতনের শিকার কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তার মাকে খবর দেয়। মা বাড়িতে ফিরে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনে গত ১৫ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস পর গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানার চারাবাড়ি বাজার এলাকা থেকে পলাতক আসামি আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই দুটি স্পর্শকাতর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ (টাঙ্গাইল ক্যাম্প) গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে জোড়া অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে র্যাব।
