নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ ভবন- দেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণত সাধারণ মানুষের জন্য সংসদের অধিবেশন সরাসরি দেখার সুযোগ অনেকটাই সীমিত। তবে এবার ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইসলামিক চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিশেষ আমন্ত্রণে তারা রাজধানীর সংসদ ভবনে উপস্থিত হয়ে সরাসরি সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন।
ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে উপস্থিত হয়ে এই প্রতিনিধি দলটি সংসদের চলমান অধিবেশন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এর মাধ্যমে তারা দেশের আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া, সংসদে জনপ্রতিনিধিদের আলোচনা, বিতর্ক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নানা দিক সম্পর্কে একটি বাস্তব ও সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করেন।
সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলকে জাতীয় সংসদের বর্ণাঢ্য ইতিহাস, এর অনন্য স্থাপত্যশৈলী, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং কার্যপ্রণালী সম্পর্কেও বিস্তারিত অবহিত করা হয়। অধিবেশন পরিদর্শন শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক আন্তরিক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় তিনি একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদের অপরিসীম ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতার বিষয়টি তাদের সামনে তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমিয়ে আনতে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। শুধু ধর্মীয় নেতারাই নন, পর্যায়ক্রমে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর- এই দুই উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক প্রতিনিধিদেরও জাতীয় সংসদ পরিদর্শনের বিশেষ এই সুযোগ করে দেওয়া হবে।
এমন একটি বিরল সুযোগ পেয়ে অংশগ্রহণকারী ইসলামিক চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় নেতারা উচ্ছ্বাস ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা ডেপুটি স্পিকারের এমন উদ্যোগকে ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী’ বলে মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্ট সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের মধ্যকার এই সরাসরি যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, তেমনি সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
