আল নোমান শান্ত, দুর্গাপুর(নেত্রকোণা)প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে নেমে এসেছে অর্ধশত বন্য হাতি। গেলো কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের সীমান্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পাহাড়ি বন্য হাতির পাল। সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে লোকালয়ে হানা দেয়। বন্য হাতির আতঙ্কে,নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
ফারুংপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমান জানিয়েছেন তারা একজোট হয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে লোকালয়ে বন্য হাতির চলে আসায় ভয়ে আতঙ্কে মানুষ। আশপাশের এলাকাবাসীরদেরও মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত পাঁচদিন ধরে পাহাড়ি বন্য হাতির দল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার আড়াপাড়া,বিজয়পুর,ভবানীপুর,দাহাপাড়া, গোপালপুর,ফান্দাসহ কয়েক গ্রামে বন্য হাতির দল হানা দিচ্ছে এতে ঘরবাড়ি,গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসহ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। সারাদিন বাংলাদেশের সীমান্তে ঘুরপাক খাচ্ছে সন্ধ্যা হলেই নেমে আসছে লোকালয়ে তখন এলাকাবাসী ফসল ও বাড়িঘর রক্ষা করতে মশাল জ্বালিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে হইহুল্লোড় করে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না।
গত ০৭ ডিসেম্বর রাতে ভারতীয় বন্য হাতির দল গ্রামে ও ফসলে হানা দিলে হাতি তাড়াতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে এক কৃষকের মৃত্য হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার কুল্লাগড়া ও দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নে পাঁচদিনে বন্য হাতি দল তান্ডব চালিয়ে প্রায় ২৫-৩০টি বাড়ি-ঘর গুরিয়ে দিয়েছে এবং নষ্ট করেছে অনেক ফসল। প্রতিদিনই বন্য হাতির তান্ডবে বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান।
হাসেম মিয়া বলেন, সারা রাত জাইগা হাতি তাড়াচ্ছি। সরকারের কাছে দ্রুত দাবি জানাই আমাদের সীমান্তবাসীকে হাতির তান্ডব থেকে রক্ষা করতে। অতিদ্রুত ব্যবস্হা না নিলে প্রাণহানির ঘটনা আরও ঘটবে। বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরই বন্যহাতি খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করে এ ধরনের ক্ষতি করে। তবে এ বছর হাতি সংখ্যায় বেশি।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান জানান,গত কয়েকদিন ধরে ভারতীয় বন্য হাতির দল লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। খবর পেয়েই এলাকায় গিয়েছি এবং পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।


