Category: মতামত

  • আমার দেখা ওয়ান ইলেভেন

    আমার দেখা ওয়ান ইলেভেন

    দেড় মাসের মাথায় ওয়ান ইলেভেন এর সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হলো। তারা সদ্য ক্ষমতাচ্যুত বিএনপি নেতৃবৃন্দ থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের প্রতি খড়গহস্ত হল। এরই মাঝে নাসিম দিনে রাতে আগের চেয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন এবং সরকারিভাবে সংযুক্ত না হয়েও নেত্রীর সাথে কাজ করতে থাকেন।

    ২০০৭ এর মার্চে নাসিমসহ সুধাসদনে গেলাম। নাসিম তার কাজ করছিলেন, তখন নেত্রী আমাকে বললেন, আলাউদ্দিন যেন বাসায় না থাকে। আমি সবাইকে বলে দিয়েছি কোন কারণে গ্রেফতার হলে যেখানে সাইন করতে বলে, যা লিখতে বলে লিখে দিতে। এগুলোর কোন মূল্য নেই আমার কাছে। কথাগুলো শুনে আমার ভেতরে মোচড় দিয়ে উঠল। বললাম, ‌‘না আপা। সে কখনো আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানিয়ে বলবে না।’

    তারপর থেকে তো আর সে বাসায় থাকত না। প্রথম কিছুদিন বিজিএমইএ নেতা সোহেল ভাইয়ের বাসাতে পরে সফিকুল ইসলাম (রামগঞ্জ) ভাইয়ের ডিওএইচএস-এর বাসাতে থাকত। আমি নাইট ডিউটির কথা বলে ওর সাথে লুকিয়ে দেখা করতে যেতাম। নেত্রী গ্রেফতার হওয়ার পর জুলাই মাসের ২৫ তারিখ নাসিম আমাকে বলল ইংল্যান্ড, আমেরিকা ও কানাডার ভিসা ও সরকারি জিও নিয়ে রেখেছি। যে কোনোদিন চলে যাব। পরদিন রাতে কোন এক অজানা নাম্বার থেকে ফোনে জানাল দেশের বাইরে যাচ্ছে সে। কোন দেশে কয়টায় ফ্লাইট কিছুই বলল না। ১ দিন পরেই  লন্ডন হতে ফোনে কথা বলল।

    সেপ্টেম্বরের দিকে আমি আর রাকা কানাডা গেলাম। বোন নীনার বাসায় উঠলাম। নাসিম কানাডায় যাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি হল। ১ মাস পর ঠিক হল আমরা বাসা নেব। বাসা নেওয়ার সময় রাকার স্কুল কত দূরে দেখছিলাম। যে বাসা দেখি সেটাই স্কুল থেকে ১-২ মাইল দূরে, তখনই রাকা উত্তেজিত হয়ে বলত “আমি হেঁটে হেঁটে যেতে পারব।” ওকে বোঝাতে পারছিলাম না যে প্রচণ্ড শীতে হেঁটে যাওয়া সম্ভব না।

    চলবে…

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

    লেখক : অধ্যাপক, কার্ডিওলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

  • নির্বাচন কমিশনে নতুন হুদা-আজিজ যেন না আসে

    নির্বাচন কমিশনে নতুন হুদা-আজিজ যেন না আসে

    ঘটনাটি লিখেছেন ড. আকবর আলি খান। তাঁর ‘অবাক বাংলাদেশ, বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি’ শিরোনামে গ্রন্থের একটি প্রবন্ধের শিরোনাম ‘নির্বাচন পরিচালনা : আমার ভোট আমি দেব’। এ প্রবন্ধে আকবর আলি খান লিখেছেন, ‘উনিশ শ ষাটের দশকে তদানীন্তন মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী সম্পর্কে একটি গল্প প্রচলিত ছিল। তার নির্বাচনী এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক ব্যক্তি বাস করতেন। তাদের কাছে ফজলুল কাদের চৌধুরীর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি গ্রহণযোগ্য ছিল না। তাই তারা কোনোমতেই ফজলুল কাদের চৌধুরীকে ভোট দেবেন না। অন্যদিকে সব সংখ্যালঘু ভোট তার বিপক্ষে চলে গেলে তার নির্বাচনে পাস করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ হয়ে যায়। চৌধুরীর চেলারা তাকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে ভোটারদের ভয় পাইয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। চৌধুরী এ পরামর্শ গ্রহণ করেননি। তিনি সরাসরি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলোয় যান এবং সেখানে তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ব্যবস্থা নেন। গ্রামের বৈঠকে তিনি প্রথমেই তার নিজের এলাকায় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ এবং স্বাস্থ্য খাতে যেসব কাজ করেছেন সেগুলো তুলে ধরেন এবং প্রশ্ন করেন যে তিনি কি সত্যি কথা বলেছেন? সবাই এক সুরে বলে উঠলেন- চৌধুরী সাহেব যা বলেছেন তা ঠিক। এরপর তিনি প্রশ্ন করলেন, এত কাজ করার পর জনসাধারণের পক্ষে তাকে ভোট দেওয়া ঠিক হবে কি হবে না। সবাই সমস্বরে বলে উঠলেন- তাকেই নির্বাচনে ভোট দেওয়া উচিত। এরপর চৌধুরী সাহেব বললেন, জনগণের স্বীকৃতিতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং তিনি মনে করেন যে তিনি ভোট পেয়ে গেছেন। তিনি তখন তাদের পরামর্শ দেন, আপনাদের কষ্ট করে কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। আমি আপনাদের ভোট পেয়ে গেছি। আর সঙ্গের চামুন্ডাদের বলে দিলেন এ অঞ্চলের কোনো ভোটার যেন কষ্ট করে কেন্দ্রে না যায় তা নিশ্চিত করতে। সংখ্যালঘু ভোটাররা তার ইঙ্গিত বুঝতে পারেন এবং ভয়ে কেউ কেন্দ্রে হাজির হননি। বিপুল ভোটে ফজলুল কাদের চৌধুরী নির্বাচিত হন।’ (পৃষ্ঠা : ৩১৭, অবাক বাংলাদেশ : বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি)

    ফ কা চৌধুরী ষাটের দশকে যে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের’ ফরমুলা আবিষ্কার করেছিলেন, নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গত প্রায় পাঁচ বছরে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার এমন কোনো পথ নেই যা তাঁর নেতৃত্বে কমিশন পরীক্ষা করেনি। কারচুপি, ভোটাধিকার হরণের যত ফরমুলা আছে সবই প্রয়োগ হয়েছে হুদা কমিশনের আমলে বিভিন্ন নির্বাচনে। এখন নির্বাচন, ভোটের ফলাফল নিয়ে মানুষের আগ্রহ নেই। নির্বাচন কমিশনের কোনো কথা মানুষ এখন বিশ্বাস করে না। এ রকম ব্যর্থ ও অযোগ্য নির্বাচন কমিশন বিদায় নিচ্ছে এটাই হলো জাতির সব থেকে স্বস্তি। (ভাগ্যিস প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কোনো বিধান নেই।)

    বিদায়ের আগে বর্তমান নির্বাচন কমিশন শেষ বড় নির্বাচনের তদারকি করছে নারায়ণগঞ্জে। আগামীকাল (১৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ভোটে যখন মানুষের তীব্র অরুচি, ভোট দেওয়ার ফ কা ফরমুলা যখন আবার জাঁকিয়ে বসেছে তখন হুদা কমিশনের জন্য নারায়ণগঞ্জে সিটি নির্বাচন এক বিরাট সুযোগ। নিরুত্তাপ হওয়ার হাত থেকে এ নির্বাচন রক্ষা করেছেন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি প্রার্থী হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জে ভোটের উত্তাপ তৈরি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান আর আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর দীর্ঘদিনের বিরোধ এ নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করে। নির্বাচন কমিশন যদি অন্তত এ নির্বাচনে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াত, সংবিধান ও আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করত তাহলে একটা সুখস্মৃতি নিয়ে তারা বিদায় নিতে পারত। যাওয়ার আগে তাদের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও দায়িত্বহীনতার বিপরীতে একটা ভালো নির্বাচনের উদাহরণ থাকত। কিন্তু নির্বাচন জমে উঠতেই কমিশন দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও শামীম ওসমানের নৌকার পক্ষে প্রচারণার ঘোষণা আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যা বলেছেন তা রীতিমতো ভিরমি খাওয়ার মতো। তিনি বলেছেন, ‘শামীম ওসমান আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, কিন্তু শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেননি।’ অবুঝ সিইসিকে কে বোঝাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অভিযোগ ও বিতর্কের মুখেই কাল নির্বাচন।
    সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা স্টালিন ভোট সম্পর্কে এক মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘জনগণ যারা ভোট দেয়, তারা কিছুই নির্ধারণ করে না, যারা ভোট গণনা করে তারাই সবকিছু নির্ধারণ করে।’ একনায়ক স্টালিনের কথার প্রতিধ্বনি দেখা যায় হুদা কমিশন পরিচালিত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোয়। জনগণ ভোট দিল কি দিল না, কাকে দিল এসব আজকাল আর ব্যাপার নয়। ভোটের শেষে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি রিটার্নিং অফিসাররা যা বলেন তা-ই আসল। কেন্দ্র জনশূন্য থাকার পরও রিটার্নিং অফিসাররা দেখাচ্ছেন ৭০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এটাই এখন ভোট। নির্বাচনের আগেই ক্ষমতাবান প্রার্থী ঘোষণা করছেন তার বাইরে কাউকে ভোট দিতে চাইলে কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। অনেক স্থানে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হবে। ইদানীং এসব কথা লুকিয়ে, গোপনে কেউ বলে না। প্রকাশ্যে বলে। এসব বলার পরও নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। বরং যে কোনো বাজে নির্বাচনের পরও দাঁত কেলিয়ে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে’ বলাটা নির্বাচন কমিশনের এক রোগে পরিণত হয়েছে। অবশ্য নির্বাচন কমিশন এসব সমালোচনা মোটেও গায়ে মাখে না। কে কী বলল না বলল তা নির্বাচন কমিশনের কিছুই যায় আসে না। বিশ্বে এই প্রথম একটি নির্বাচন কমিশন যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা আর নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার গত পাঁচ বছর একে অন্যের সমালোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। নূরুল হুদা যেন আওয়ামী লীগকে জেতাতে মরিয়া। আর তালুকদার বিএনপির ভাষায় কথা বলতে ব্যাকুল। মাহবুব তালুকদারকে অবশ্য আমার নির্বাচন কমিশনার মনে হয় না। তাঁকে আমার বিরোধী দলের নেতা মনে হয়। একটি সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তি এত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অনৈতিক হন কীভাবে তা আমার এক বড় প্রশ্ন। প্রতিটি নির্বাচনের পরই তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। নির্বাচন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। সুষ্ঠু নির্বাচন না করার ব্যর্থতা তাঁরও। তিনি যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে পদত্যাগ করেন না কেন? গাড়ি, বাড়ি, বেতন, পিয়ন-চাপরাশি নিয়ে তিনি শুধু সমালোচনা করেন। এটা কি নৈতিক?

    এ নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা এখন ধ্বংসস্তূপ। হুদা কমিশনের রাজত্বে বাংলাদেশের নির্বাচনগুলোকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, ভোট ছাড়া নির্বাচন। একে বলা যেতে পারে ফজলুল কাদের চৌধুরী ফরমুলার নির্বাচন। এ পদ্ধতিতে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার হয় না। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোটারদের ‘মনের ভাব’ বুঝে ফেলেন। সে অনুযায়ী ভোট হয়ে যায়। এ ভোটে কোনো রক্তারক্তি নেই, খুনোখুনি নেই। নির্বাচন কর্তারাই নির্ধারণ করেন ভোটের ফলাফল। হুদা কমিশন আবিষ্কৃত দ্বিতীয় ধরনের ভোট আরও নিরাপদ। এখানে একাধিক প্রার্থী ফরম কিনছেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন দেখা যায় একজন ছাড়া আর কোনো প্রার্থী নেই। অন্য প্রার্থীদের ‘ম্যানেজ’ করা হয়। ভোটের আগেই নির্বাচন কমিশন ওই একক প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এটা অত্যন্ত আধুনিক ও ঝুঁকিহীন ভোটব্যবস্থা। এ ভোটে অর্থ খরচ কম, ভোট নিয়ে প্রচারণার জন্য শব্দদূষণের ঝুঁকি নেই। লোকজনের অযথা পরিশ্রমের দরকার নেই। হুদা কমিশন উদ্ভাবিত তৃতীয় ধরনের ভোটব্যবস্থা একটু সহিংস, ঝুঁকিপূর্ণ। একে ভোট না বলে যুদ্ধ বলা ভালো। এখানে মোটা দাগে দুটি পক্ষ থাকে। এরা নির্বাচনী প্রচারণা, জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনায় খুব একটা আগ্রহী থাকে না। চর দখলের মতো এরা এদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে এলাকা দখলে। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর চড়াও হয়। বেশ কিছু নিরীহ মানুষের প্রাণও যায়। তাতে কী, ভোটের অধিকারের জন্য রক্তদানের নজির তো এ দেশের পুরনো ইতিহাস। দুই পক্ষের খুনোখুনি-মারামারিতে যে পক্ষ জয়ী হয় কেন্দ্র তার। তিনিই ভোটে বিজয়ী। এ সহিংসতার সময় নির্বাচন কর্মকর্তারা খানিকটা বিশ্রামে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে যে কোনো একটা পক্ষকে সমর্থন দেয়। জনগণ ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। যুদ্ধ শেষে বিজয়ীকে কমিশন নির্বাচিত ঘোষণা করে।

    নির্বাচন কমিশনের এ বেহাল দশার মধ্যেই শেষ হচ্ছে তার মেয়াদ। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান কমিশন বিদায় নেবে। হুদা কমিশনের বিদায়ের দিন দেশে ভোটমুক্তির উৎসবের দিন হতে পারে। এ কমিশন যেন মানুষের ভোটাধিকার বোতলবন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু হুদা কমিশন বিদায় নিলেই কি মানুষ দলবেঁধে, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট উৎসব করবে? বর্তমান কমিশন চলে গেলেই কি জনগণের ভোটের অনীহা কেটে যাবে? আমি তা মনে করি না। হুদা কমিশনের পর আবার যদি একই ধরনের একটা নির্বাচন কমিশন গঠিত হয় তাহলে হয়তো আমাদের ভোটব্যবস্থা আরও অন্ধকারে চলে যাবে। তা যদি হয় তাহলে গণতন্ত্র সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংলাপ শুরু করেছেন। ১৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এ সংলাপ শেষ হবে। কিন্তু এ সংলাপ নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিএনপিসহ দেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এ সংলাপে যায়নি। আমি মনে করি বিএনপির এটি আরেকটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে সব দলের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ভোটব্যবস্থার এই হালের জন্য আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোও কম দায়ী নয়। যে কোনো প্রকারে ক্ষমতায় থাকার জন্য অথবা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা নির্বাচনব্যবস্থা কলুষিত করেছে। জনগণের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। বিএনপি আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন করে ভোটে জয়ী হতে চেয়েছিল। এরশাদ অনুগতদের নির্বাচন কমিশনে বসিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তামাশায় পরিণত করেছিলেন। বর্তমান সরকারও রকিব-হুদাদের কমিশনে বসিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চেয়েছে। এবার আরেকটা হুদা কমিশন হলে তা হবে গোটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশে বহু যোগ্য ব্যক্তি আছেন। সরকারকে এখন সবার আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নিয়ে একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করতেই হবে। নূরুল হুদার মতো নির্বাচন কমিশন যদি আওয়ামী লীগ সরকার আবার গঠন করে তাহলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আওয়ামী লীগই। এ দেশে গণতন্ত্র এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে ত্যাগ স্বীকার করা দল আওয়ামী লীগ। এবার নির্বাচন কমিশন গঠন তাই আওয়ামী লীগের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। তবে একটি কথা মনে রাখা দরকার, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্ব নয়। বিরোধী দলেরও দায়িত্ব। বিরোধী দল যদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, ভোটে উদ্বুদ্ধ করতে পারে তাহলে ক্ষমতাসীনরা কারচুপি করতে পারে না। নির্বাচন কমিশনও যা খুশি করতে পারে না। এ নারায়ণগঞ্জেই ২০০৩ সালের পৌরসভা নির্বাচন তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তখনো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হয়নি। পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। সে সময় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার করা হলো। নির্বাচনী প্রচারে গেলেই বাধা, হামলা। নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগের দেড় শতাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আইভী দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে নির্বাচনের মাঠে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইভী বিজয়ী হন। চট্টগ্রামে প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকায় প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ মাটি কামড়ে থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেই জিতেছিলেন। ইদানীং বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হতে ‘জনগণ’ নয় ক্ষমতাসীন দলের ওপর নির্ভর করে। তারা মনে করে সরকার আদর-আপ্যায়ন করে তাদের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেবে। কিন্তু নির্বাচনে কেউ তো কাউকে জামাই আদর করবে না। নির্বাচনে কীভাবে জয়ী হতে হয় সে শিক্ষা পাওয়া যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি থেকে। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু তাঁর নির্বাচনের বিবরণ দিয়েছেন এভাবে- ‘ঢাকা থেকে পুলিশের প্রধানও গোপালগঞ্জে হাজির হয়ে পরিষ্কারভাবে তার কর্মচারীদের হুকুম দিলেন মুসলিম লীগকে সমর্থন করতে। ফরিদপুর জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আলতাফ গওহর সরকারের পক্ষে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় সরকার তাকে বদলি করে আরেকজন কর্মচারী আনলেন। তিনি আমার এলাকায় গিয়ে নিজেই বক্তৃতা করতে শুরু করলেন এবং ইলেকশনের তিন দিন আগে সেন্টারগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে গেলেন, যেখানে জামান সাহেবের সুবিধা হতে পারে। আমার পক্ষে জনসাধারণ, ছাত্র ও যুবকরা কাজ করতে শুরু করল নিঃস্বার্থভাবে। নির্বাচনের চার দিন আগে শহীদ সাহেব সরকারি দলের ওইসব অপকীর্তির খবর পেয়ে হাজির হয়ে দুটো সভা করলেন। আর নির্বাচনের একদিন আগে মওলানা সাহেব হাজির হয়ে একটা সভা করলেন। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে খন্দকার শামসুল হক মোক্তার সাহেব, রহমত জান, শহীদুল ইসলাম ও ইমদাদকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে ফরিদপুর জেলে আটক করা হলো। একটা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আরও প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট দেওয়া হয়। শামসুল হক মোক্তার সাহেবকে জনসাধারণ ভালোবাসত। তাঁর কর্মীরা খুব নামকরা ছিল। আরও অনেককে গ্রেফতার করার ষড়যন্ত্র আমার কানে এলে তাদের আমি শহরে আসতে নিষেধ করে দিলাম। আমার নির্বাচনী এলাকা ছাড়া আশপাশের দুই এলাকাতে আমাকে যেতে হয়েছিল- যেমন যশোরের আবদুল হাকিম সাহেবের নির্বাচনী এলাকায়, ইনি পরে স্পিকার হন; এবং আবদুল খালেকের এলাকায়, ইনি পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন।

    নির্বাচনে দেখা গেল ওয়াহিদুজ্জামান সাহেব প্রায় ১০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। জনসাধারণ আমাকে শুধু ভোটই দেয়নি, প্রায় পাঁচ হাজার টাকা নজরানা হিসেবে দিয়েছিল নির্বাচনে খরচ চালানোর জন্য। আমার ধারণা হয়েছিল, মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে। যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবনও দিতে পারে।’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী-শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা : ১৫৬-৫৭)।

    রাজনীতি এবং নির্বাচনের মূল কথা এটাই, জনগণকে ভালোবাসতে হবে। জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। কিন্তু এখন রাজনীতিতে তা কতটা আছে? রাজনীতিবিদরা জনগণের ওপর আস্থা কতটা রাখেন। জনগণের ওপর আস্থা থাকলে কেউ নির্বাচনে নয়ছয়ের কথা ভাবে না। হুদা কমিশনের মতো দৈত্যও রাষ্ট্রের ঘাড়ে চেপে বসে না। জনগণের ওপর আস্থাহীন রাজনীতি নির্বাচন কমিশনে হুদাদেরই খুঁজবে।

    লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত

  • আপা, জোর করে নেতা হওয়া যায় কিন্তু…

    আপা, জোর করে নেতা হওয়া যায় কিন্তু…

    আমি আজ নাজমা আপার মেয়েদের নিয়ে কিছু স্ক্রীনশট শেয়ার করছি। আপা আপনি হয়তো আমাকে ১৮ আসনের কেন্দ্র কমিটি দেয়ার পর থেকে রেগে আছেন। আপা আমি কেনো দিয়েছিলাম মনে আছে তো? আপনি আমি সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও পরিচালনা কমিটি আমাকে বাদ দিয়ে করেছিলেন ১৮ আসনের উপ-নির্বাচন এটা ভুলে গেছেন। আপা আপনি জানতেন আমি অপুদি কে ভালোবাসি কিন্তু আপনি আমাকে ঠেকানোর জন্য আপনার মহানগর সাধারণ সম্পাদক কে আমি যে ঢাকা-১৪ আসনে প্রার্থী সেখানে রাখতেন কেনো??

    সংগঠনের কর্মী অযোগ্য হলে ও তার সাপোর্ট করা তো উচিত ছিল? আপনাদের কাছে অনেক ছোট হয়েছি বলেছি আপনি আর অপুদি যেমন এলাকা ভাগ করে নিয়েছেন আমাদের ও ভাগ করে দেন আমার এলাকা আমার ভাগে থাকবে। আপা সেদিন আপনি তা করেন নাই শুধু আসলাম ভাইয়ের থেকে সুবিধা নিতো আপনার সাধারণ সম্পাদক তাই। আপা আমি ঢাকা মহানগর সভাপতি হলে ও সারা বাংলাদেশের মেয়েরা আমাকে ভালোবাসতো। আপনার মেয়েরা ও আমাকে ব্রান্ড বলতো।

    আপা পাপিয়াকে পদ দেয়া আপনাদের ব্যাপার। আর আমি সাবেক এমপি তাই দলের কর্মীদের সাথে মিশবো এটাই স্বাভাবিক। আমি সব সময় নেতাকর্মীদের কে সময় দেই সবাই জানে আর দুর্দিনে ও কর্মীদের সবাই কে নিয়ে নাস্তা করতাম তাদের কে আনন্দে মাতিয়ে রাখতাম। যা রাজনীতিরই একটা অংশ। আমি আন্দোলন কোন বড় রেস্টুরেন্ট এ খেতাম না রাস্তায় বসে সাত্তার ভাইয়ের দেয়া খিচুরি খেতাম। আমি মাঠের কর্মী তাই মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন সব সময় করি। এক পাপিয়া খারাপ দেখে সব খারাপ না। তাই ওর জন্য কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা যাবে না। আপা পাপিয়ার ঘটনার পর ও ঢাকা জেলার উত্তর বিতর্কিত কমিটি আপনি দিলেন এজন্য ও কি আমাকে দায়ী করবেন?? আপা আপনি কেনো মিথ্যা বলছেন আমি ৩২ নাম্বারে বিশৃঙ্খলা এমন কি গাঁয়ে হাত তুলেছি??
    আপা আমি তো আপনার মেয়েদের হাতে নির্যাতিত আমার মেয়েদের যাদের আপনার ভাবা উচিত তারাও আপনার কর্মী তাদের নির্যাতনের প্রমাণ দিয়েছি। আপা আপনি কি প্রমাণ দিবেন প্লিজ? আমাকে আপনার মেয়ে লিলি কানিজ সবাই পছন্দ করে। কিন্তু আপনার অযোগ্য মহানগর সাধারণ সম্পাদক আপনাকে এমনটা করাচ্ছে। লিলি সেদিন যে পরিচয় দিয়েছে গাছের ডাল ভেঙে মেয়েদের মারা তা ৩২ নাম্বারের পবিত্রতা নষ্ট করেছে। লিলির মতো একজন সাংগঠনিক মেয়ে আজ আপনার কিছু অযোগ্য মেয়ের উস্কানীতে ভুল পথে রাজনীতি করছে। আজ সংগঠন কে হাসির খোরাক করা হয়েছে। আপা যুব মহিলা লীগ কাদের কারণে অল্প সময়ে পরিচিত হয়েছিল তা ভুললে হবে না।

    সংগঠনে আমাদের সকলের বয়স হয়েছে সবাই হয়তো ভবিষ্যৎ রাজনীতির হাল ধরবো। কিন্তু আজকের ঘটনাই যখন অতীত হবে তখন ঘৃণা ভরে মানুষ তা স্মরণ করবে। আমি যে সহজে হাল ছাড়া মানুষ না তাই আমাকে আঘাত করার বৃথা চেষ্টা বন্ধ করা উচিত। আমার জীবনে রাজনীতিতে ফুল বিছানো না কাঁটা বিছানো ছিল তা বেঁছেই আমি পথ চলতে অভ্যস্ত। আপা আমি অদক্ষ অথচ নেত্রী গ্রেফতার হলে আমার নেতৃত্বে কোর্টে মিছিল হয়, আমি সে সময় যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সুধা সদনের সামনে পালন করি, আমি ১৫ আগস্ট পালন করি বিশাল করে যখন ওয়ান ইলেভেনে ভয়ে অনেকে রাজপথে নামতো না।

    সাবিনা আক্তার তুহিন অ-দক্ষ আজব যতজন মেয়ে আছে রাজপথে সংগ্রাম জেল খেটেছে বেশির ভাগ আমি তুহিনের ঢাকা মহানগর উত্তরের যখন আমি মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক। আপা আপনি আপনার মেয়েদের বলেন আমার বিরুদ্ধে নিউজ শেয়ার করতে তারা বলে প্রিয় আপা সরি পদের জন্য করতে হচ্ছে। আমি তাদের কথাগুলো প্রকাশ করলাম না তবে আমি নিজেই বলি বোন পদ বাঁচাও। আপা জোর করে নেতা হওয়া যায় কিন্তু জনগণের নেতা হতে জনগণের মন জয় করতে হয়।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • বিজয় দিবস ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

    বিজয় দিবস ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

    ফেনী থেকে, ফরহাদ খোন্দকার:

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী,স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বিজয়ের ৫০বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা
    প্রধানঅতিথিঃ- জনাব খায়রুল বশর মজুমদার তপন,চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ,ফেনী।
    প্রধান বক্তাঃ-জনাব এ.এফ.এম. নুরুস সাফা চৌধুরী। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, রাজষপুর আলী আজ্জম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়।
    বিশেষ অতিথিঃ- এম.শফিকুল হোসেন মহিম।সদস্য, জেলা পরিষদ ফেনী।
    বিশেষ অতিথিঃ-জনাব জসিম উদ্দিন। চেয়ারম্যান,চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।
    বিশেষ অতিথিঃ- জনাব পেয়ার আহম্মদ।মেম্বার,চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।
    বিশেষ অতিথিঃ- জনাবা সুফিয়া আক্তার।মেম্বার, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।
    সভাপতিত্ব করবেনঃ-জনাব এম.এম.কামাল খান।প্রধান শিক্ষক, রাজষপুর আলী আজ্জম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়।

    আয়োজনেঃ- রাজষপুর আলী আজ্জম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়।
    পরশুরাম–ফেনী।

  • সামান্থার আইটেম গান নিষিদ্ধ করার দাবি

    সামান্থার আইটেম গান নিষিদ্ধ করার দাবি

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা আক্কিনেনি। প্রথমবারের মতো আইটেম গানে কোমর দুলিয়েছেন তিনি।কিন্তু তার এই গান নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। সম্প্রতি ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমার এই গানের একটি লিরিক্যাল ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। ‘ও আন্তাভা, ও ও আন্তাভা’ শিরোনামের এই গানটি মুহূর্তের মধ্যেই আলোচনায় চলে আসে। মাত্র দুই দিনে ইউটিউবে শুধু তেলেগু সংস্করণটিই দেখা হয়েছে প্রায় ২০ মিলিয়ন।

    এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সামান্থার এই আইটেম গানের কথাগুলো পছন্দ হয়নি অন্ধ্র প্রদেশের একটি পুরুষদের সংস্থার। তাদের অভিযোগ, এই গানে পুরুষদের বিকৃত মানসিকতার এবং যৌন পিপাসু হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি গানটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    তামিল, তেলেগু ভাষার পাশাপাশি হিন্দিতেও প্রকাশ পেয়েছে ‘ও আন্তাভা, ও ও আন্তাভা’ গানটি। হিন্দি সংস্করণটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কণিকা কাপুর। লিখেছেন রাকীব আলম। সুর করেছেন দেবী শ্রী প্রসাদ।

    পুষ্পা’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন আল্লু অর্জুন। তাকে পুষ্পা রাজ নামের এক চোরাকারবারির চরিত্রে দেখা যাবে। এতে আল্লুর বিপরীতে আছেন রাশমিকা মান্দানা। এছাড়াও এটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন ফাহাদ ফাসিল। সুকুমার পরিচালিত সিনেমাটি আগামী ১৭ ডিসেম্বর তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম, হিন্দি ও কন্নড় ভাষায় মুক্তি পাবে।

  • খালেদা জিয়ার আবেদনের সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করুন : আইনমন্ত্রী

    খালেদা জিয়ার আবেদনের সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করুন : আইনমন্ত্রী

    অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আবেদনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানাতে অপেক্ষায় রাখলেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

    রবিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন ইন্সটিটিউকে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন: একটু অপেক্ষা করুন, দেখবেন।

    ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার ‘পরিপাকতন্ত্রে’ রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসের কথা জানান চিকিৎসকরা।

  • ইমনের ফোনটাকে ধন্যবাদ, ইমনকে নয় : ওমর সানী

    ইমনের ফোনটাকে ধন্যবাদ, ইমনকে নয় : ওমর সানী

    তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে চিত্রনায়ক ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহির মধ্যকার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আর এরপরই ডা. মুরাদ হাসানকে নিয়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।

    মাহিকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকম প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানীও বাদ যাননি।

    নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে… ইমনের ফোনটাকে ধন্যবাদ, ইমনকে নয়। আর মাহি, ওই মুহূর্তে কী বা করার থাকে কী বা বলার থাকে বলুন, আল্লাহ ছাড় দেন ছেড়ে দেন না। আমি একজন শিল্পী।’

  • মা-বোনদের মনে যদি কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে ক্ষমা করে দিবেন : ডা. মুরাদ

    মা-বোনদের মনে যদি কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে ক্ষমা করে দিবেন : ডা. মুরাদ

    আমি যদি কোন ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা দেশরত্ন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সকল সিদ্ধান্ত মেনে নিবো আজীবন।

    জয় বাংলা

    জয় বঙ্গবন্ধু

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • সে ডাক্তার হয়েছিলো মানুষ হতে পারেনি!

    সে ডাক্তার হয়েছিলো মানুষ হতে পারেনি!

    সে ডাক্তার হয়েছিলো মানুষ হতে পারেনি! সে এমপি-মন্ত্রী হয়েছিলো একজন আদর্শিক রাজনৈতিক কর্মীই হতে পারেনি! কথায় কথায় বাবা মতিউর রহমান তালুকদারের সন্তান বলে দম্ভ দেখাতো। বাপের সুনাম রাখা দূরে থাক প্রমাণ করেছে পরিবার থেকেও পাঠ নেই।

    নটরডেম কলেজে পড়েছে, ময়মনমিংহ মেডিকেল কলেজে পড়েছে, একজন উন্মাদ মাতাল যৌনবিকৃত নষ্ট অসভ্য হয়ে বের হয়েছে। সে ধর্মপ্রাণ মানুষদের মনে আঘাত দিয়ে উন্মাসিক আচরণ করেছে, সে রাজনীতির ভাষা জানে না, শিখেনি প্রতিপক্ষকে আক্রমণের কৌশল! কলতলার খিস্তি শিখে বেড়ে ওঠেছে তাই কন্যাসম জাইমাকে নোংরা গালি দিয়েছে। পিতৃতুল্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নোংরা আক্রমণ করেছে। ঢাবির ছাত্রীদের নোংরা মন্তব্য করে জানান দিয়েছে, সে কতটা অন্ধকার জগতের মানুষ। ঢাকা ক্লাবের সদস্যদের মা তুলে গালিগালাজ করে জানিয়েছে মাকে সম্মান করার শিক্ষাও পায়নি।

    নায়িকা মাহির সাথে যেভাবে কথা বলেছে গা ঘিন ঘিন করে বমি আসে! বুঝিয়েছে সে আজন্ম কুৎসিত কদর্য এক যৌনবিকৃত অমানুষই থেকে গেছে। ডা. মুরাদ হাসান রাজনীতির অভিশাপ, সমাজের অভিশাপ। বাহিরে মানুষের আদল ভিতরে পশুরবাস! তার শাস্তির দণ্ড আরও পাওনা বাকি। কেবিনেটকে অভিশাপ ও কলঙ্কমুক্ত করতে তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন। দল ও সংসদ থেকেও তাকে বিদায় জানাতে হবে। তার সীমাহীন অসভ্যতা নোংরামি ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকাই নেয়নি, প্রধানমন্ত্রীই নিয়েছেন কঠিন পদক্ষেপ। গণমাধ্যমকেও আজ নিজেদের দিকে তাকাতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে তার এত কর্মকাণ্ড নিয়ে কোথাও কেউ কেনো একটি প্রতিবেদনও করতে পারেনি?

    লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

  • আল্লাহ সাক্ষী, আমার কোনো দোষ ছিল না : মাহি

    আল্লাহ সাক্ষী, আমার কোনো দোষ ছিল না : মাহি

    তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে চিত্রনায়ক ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহির মধ্যকার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আর সেই ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন মাহিয়া মাহি।

    সোমবার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন ওমরাহ করতে সৌদি আরবে অবস্থান করা মাহি।

    ভিডিও বার্তায় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির বলেছেন, ‘আমি সেদিনও ভীষণ বিব্রত ছিলাম, নিজের আত্মসম্মানবোধ কতটুকু… সেখানে কতটুকু আঘাত লেগেছে সেটা শুধু আমি জানি আর আমার আল্লাহ জানে। এবং আজকেও আমি ভীষণভাবে বিব্রত। আরও একবার নিজে তো ছোট হয়েছি, দেশবাসীর কাছে আরও একবার ছোট হলাম। কিন্তু আপনারা নিজের থেকে একবার চিন্তা করে দেখবেন, এই ভাষার প্রতিউত্তর বা এই ব্যবহারের প্রতিউত্তর আমার আসলে কী দেওয়া উচিত ছিল। আদেও আমি আসলে… সেদিন আমার কিছু বলার ভাষা ছিল না। আমি সেজন্যই সেদিন কোন প্রতিবাদ করেনি।’

    মাহি আরও বলেন, ‘আমার নিজের মত করে আমার মনে হয়েছে যেভাবে পাস কাটিয়ে যাওয়া উচিত, চুপ থেকেছি, এটা দুই বছর আগের ঘটনা। আমি বরাবরের মতই সব সময় আল্লাহর কাছে বলি আমি কষ্ট পেয়েছি। যার মাধ্যমে কষ্ট পেয়েছি, কোন না কোন একদিন ঠিকই সেটার ফলাফল পেয়েছেন। এটা প্রমাণিত, আলহামদুলিল্লাহ…আল্লাহ সাক্ষী, আমার কোনো দোষ ছিল না। আমি জাস্ট একটা পরিস্থিতির শিকার ছিলাম।’

  • নারীর প্রতি অশালীন ভাষার ব্যবহার আর কত

    নারীর প্রতি অশালীন ভাষার ব্যবহার আর কত

    ‘আহ মেয়েটা কি হট, দেখ দেখ ফিগার কি, মাল একখানা’- এমন শব্দ বা এর চেয়েও জঘন্য শব্দ শুনে নাই এমন নারী কেউ নাই বোধ করি। প্রতিনিয়ত রাস্তা ঘাটে অশালীন চাহনি, অঙ্গভঙ্গীর সাথে অশ্রাব্য শব্দ কানে আসে নারীদের। এর জন্য বয়সের সীমারেখা লাগে না। কিশোরী থেকে শুরু করে বয়স্কা নারীও এ অবস্থার শিকার হয়।

    সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষের ফোনালাপ ভিডিও বা আলাপচারিতায় যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয় তা সত্যি লজ্জিত করে এ সমাজকে। শুধু তাই নয় যাকে উদ্দেশ্য করে এ অশালীন ভাষাগুলো ব্যবহার করা হয় তা মুখে আনা বা স্মরণ করাও তার জন্য যন্ত্রণাদায়ক। আবার শুনেও প্রতিবাদ করতে পারে না ভয়ে।

    সামাজিক অবস্থান ভেদে নারীর প্রতি এমন শব্দের ব্যবহার কোন সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। কিন্তু এর প্রতিবাদ হয় না। বরং নীরবে সহ্য করে চলতে হয়। কারণ প্রতিবাদ করলে আরও হেনস্তা হবার আশঙ্কা থাকে।
    আইন করে ইভটিজিং বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে সমাজে ইভটিজিং অনেকটা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু অশালীন ভাষার ব্যবহার করে উত্যক্ত করাও এক ধরনের ইভটিজিং। একজন স্কুলগামী মেয়েকে বা কর্মজীবী নারীকে নোংরা ভাষা দিয়ে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করারটা অন্যায়। এমন ইঙ্গিত নারীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। সে চলাফেরাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে।

    আবার দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রে বা রাস্তাঘাটে চলাচলের পরিস্থিতি পরিবারকে জানালে অনেক সময় বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা হয় বলে চুপ করে থাকতে। না হয় বলবে, অন্য মেয়েদের বলে না তাকে কেন বলে। এমন কথার উত্তরে নারীর ঘরে বাইরের চুপ করে থাকা ছাড়া গত্যন্তর নাই।

    ইদানীং কালে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে অনেক পরিবার মেয়েদেরকে বোরকা বা হিজাব পরায়। তবে এটা কোন সমাজের জন্য সমাধান হতে পারে না। নারীদের সম্মান ও মর্যাদা দেবার মানসিকতা তৈরি করতে হবে সবার আগে। আর এ মানসিকতা গড়তে হলে পরিবার থেকে শিক্ষাটা আসতে হবে।

    সমস্যা হলো নারীদের প্রতি অশালীন ভাষা বা কটুবাক্য ছুঁড়ে দেয় সব বয়সের পুরুষরা। রাস্তায় বা কর্মক্ষেত্রের নারীটি কারো ঘরের কন্যা, জায়া, জননী তা তারা ভুলে যায়। সুতরাং ঘরের তরুণ ছেলেটিকে নারীর প্রতি সম্মান দিয়ে কথা বলতে শিখানোর আগে নিজেকে শুধরাতে হবে। অফিসের নারী কর্মীটি কোন সহজলভ্য ভোগ্যপণ্য নয়- এ কথাটা আত্মস্থ করতে হবে। তাহলেই বসকে নিয়ে সমালোচনা করে অশালীন ভাষা ব্যবহারে সংযত হতে পারবে।

    প্রকৃতপক্ষে আইন করে সব বন্ধ করা যায় না। নারীর প্রতি অকথ্য ভাষার ব্যবহার করতে নৈতিকতা ও মানসিকতার পরিবর্তন অতীব জরুরী। এর পাশাপাশি নারীকে তার নিজেরই প্রতিবাদ করতে হবে। একটা সময় মেয়েরা ইভটিজিংও সহ্য করত। কিন্তু এখন তারা আইনের কঠোরতার কারণে প্রতিবাদ করে। রাস্তায় বা আর কোথাও যে লোকটি মুখের বুলি দিয়ে অসভ্যতামি করছে তাকে উত্তর দিলেই বুঝবে, ভাষাই হলো শিষ্টাচারের প্রথম বহিঃপ্রকাশ। প্রয়োজনে এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযোগ করতে হবে।

    পুঁথিগত বিদ্যা আর রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থান থাকলেই যে মানুষ ভদ্র হবে তা কিন্তু নয়। একজন রুচিবান মানুষের প্রথম বহিঃপ্রকাশ হলো তার আচার ব্যবহার। আর ব্যবহার কতটা শালীন তা বুঝা যায় ভাষার ব্যবহারের পরিমিত বোধ থেকে। তবে আজকাল মিডিয়াতে অনেক ব্যক্তি হয়তো বা নিজেদের জনপ্রিয় করে তুলতে অশালীন ভাষার ব্যবহার করে কিনা তা কেবল তিনিই বলতে পারেন। তবে রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিকে কথা বলার আগে বুঝতে হবে তার পক্ষে কতটা বলা উচিত বা উচিত নয়। সর্বোপরি একজন নারী সে যে বয়সেরই হোক না কেন, তাকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য কোনভাবেই শোভনীয় নয়। নিজের ঘরের কন্যা, জায়া, জননীকে একবার ভাবুন তাহলেই বুঝবেন কারো প্রতি খারাপ শব্দের ব্যবহার বা আচরণ করাটা যুক্তিযুক্ত কিনা।

    বর্তমানে দেশ, সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে। সেক্ষেত্রে নারীকে স্বাবলম্বী হয়ে স্বাধীনভাবে চলতে হলে পুরুষকে সমমনা মনোভাব নিয়ে হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। শারিরীক অবয়বে প্রকাশিত নারীর রূপের মোহে পুরুষের অভদ্র অশালীন ভাষার ব্যবহার আপনাকেই ছোট করে- এ কথাটা মনে রাখতে হবে। আর এ কথাটা মনে থাকলে কোন মেয়ের প্রতি অসভ্য শব্দ ছুঁড়ে দিতে বিবেকে প্রশ্ন জাগবে- এ ধরনের শব্দ নারীকে অসম্মান করারই নামান্তর।

    লেখক- কলাম লেখক

  • মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির আবেগের জায়গা, বিএনপি সেটা নিয়েই খেলে : জয়

    মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির আবেগের জায়গা, বিএনপি সেটা নিয়েই খেলে : জয়

    বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী চলছে। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি। দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও পালন করা হচ্ছে নানাবিধ অনুষ্ঠান।

    ৭ মার্চের বেশ কয়েকদিন আগে, এই দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। তখন দেশের মানুষ মুক্তকণ্ঠে তাদের প্রশংসা করতে শুরু করে। কিন্তু ৭ মার্চ বিএনপির অনুষ্ঠানে দেখা যায়, সেখানে বিএনপি নেতারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার নায়ক ও খালেদা জিয়া-তারেক রহমানকে দেশের সেরা মানুষ হিসেবে দাবি করে। অনুষ্ঠানটি ৭ মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আয়োজন করার ঘোষণা দিলেও, বাস্তবে তারা স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে। মূলত, একই পদ্ধতিতে এর আগেও অজস্রবার বিএনপি এই কাজ কাজ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, জিয়াউর রহমান যেমন উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে; খালেদা জিয়াও তেমনি মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী পরিচয় ব্যবহার করে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে এবং দেশকে তুলে দিয়েছে ১৯৭১-এর খুনি ও ধর্ষক জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে।

    জিয়াউর রহমানের ছেলে ও বিএনপির ডি ফ্যাক্টো প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলরা আজ যেভাবে সাধারণ মানুষের মুক্তিযুদ্ধের আবেগ নিয়ে খেলা করছে, ঠিক একইভাবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই কাজ করে আসছে বিএনপি। মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তি দাবি করে, সরলপ্রাণ মানুষদের আবেগের সঙ্গে প্রতারণার করে, নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে এই বিএনপি। এমনকি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিষয়ে এতদিন চুপ থাকলেও, হঠাৎ করেই মাঠে নেমেছে তারা। কারণ, তাদের রাজনীতির অস্তিত্বই টিকে আছে এই কপটতার ওপর। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির আবেগের জায়গা, আর বিএনপি সেটা নিয়েই খেলে। তাদের এই লুকোচুরি খেলার ছদ্মবেশ উন্মোচিত হয়ে পড়লে, তারা প্রকৃত অর্থেই পথে বসে যাবে। তাই যে কোনো মূল্যে, ইতিহাস বিকৃত করে, মুক্তিযুদ্ধকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে আসছে তারা।
    ত্রিশ লাখ মানুষের প্রাণ ও প্রায় চার লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান স্বাধীনতাকে নিয়ে যারা এহেন নিচুকর্মে লিপ্ত, তারা নৈতিক বিচারে অপরাধী। তাদের এই অপরাধ অমার্জনীয়। দেশবিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে নস্যাৎ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর দায়ে, বিএনপির নেতাকর্মীদের দণ্ড প্রাপ্য। তারা এদেশকে ধ্বংস করার জন্য যা করেছে, গালভরা বুলি দিয়ে তা ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। খুব ছোট পরিসরে হলেও, আসুন একবার চোখ বুলিয়ে দেখি- বিএনপি গংদের অপরাজনীতির ফিরিস্তি।

    ১৯৭১-এর রাজাকার-খুনি-ধর্ষকদের সাজা মাফ

    ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের সাগরের ওপর ১৯৭১ সালে যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে, সেই মুক্ত দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসিত করেছে স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান। এজন্য শুরুতেই সে গণহত্যা ও ধর্ষণের মাস্টারমাইন্ড রাজাকারদের বিচারপ্রক্রিয়া নষ্ট করে দেয়। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে দালাল আইন করে, ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে, এই বর্বর অমানুষদের বিচারের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর, জিয়াউর রহমান নেতৃত্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী চক্র এক আদেশে সেই দালাল আইন বাতিল করে। এবং কমপক্ষে ১১ হাজার সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়। এরপর, ১৯৭৬ সালের ১৮ জানুয়ারি, পাকিস্তানি থাকা বাংলাদেশ-বিরোধীদের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলে। ফলে, পলাতক রাজাকাররাও বীরদর্পে ঢুকতে থাকে দেশে।

    প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ গড়ার জন্য একটা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এটি নিয়ে কুচক্রীরা বলে যে, বঙ্গবন্ধু সবাইকে মাফ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এটি সত্য নয়। যারা ধর্ষণ-হত্যা-অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের মতো জঘণ্য অপরাধে লিপ্ত ছিল, তাদের জন্য বিচারের ব্যবস্থা করে; যারা লঘু অপরাধে যুক্ত ছিল, তাদের লঘু দণ্ড দিয়ে, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচারের দাবিও জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এ ছাড়া পাকিস্তানিদের এদেশীয় দোসর, যারা এসব ঘৃণ্য অপরাধে যুক্ত, তাদেরও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান ছিল। প্রমাণিত এসব অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে তাদের লালন-পালন করেছে বিএনপি। স্বাধীনতার ৫০ বছরের বিএনপির সবচেয়ে বড় অর্জন এটি।

    বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা

    বিএনপির আরেকটি বড় অর্জন হলো বঙ্গবন্ধুদের খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দিতে বাংলাদেশে ‌‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেবছর, ২৬ সেপ্টেম্বর, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এই দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করে। পরে ১৯৭৯ সালে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সংসদ কর্তৃক এটি অনুমোদন করা হয়। ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই, বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর পর এটি আইন হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে জিয়াউর রহমান।

    বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেই থেমে থাকেনি এই সামরিক জান্তা। জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়, এই খুনিরা লিবিয়ায় নিরাপদ জীবনযাপন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জনশক্তি রফতানির ব্যবসা করে। এছাড়াও দেশের মধ্যে কন্সট্রাকশানসহ বিভিন্ন কোম্পানি খুলে রমরমা বাণিজ্য চালায়। এমনিক তাদের সমর্থকদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে, অস্ত্র চালনার অত্যাধুনিক ট্রেনিং দিয়ে, আবারো দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও করে এই চক্র। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে, বিদেশে অবস্থানকারী হত্যাকারীদের কয়েকজনকে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে চাকরি এবং পদোন্নতিও দেয়। এরাই একসময় ফ্রিডম পার্টি গঠন করে দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চালায়। এমনকি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে হত্যার চেষ্টাও করে।

    স্বাধীনতাবিরোধী ও রাজাকারদের ক্ষমতায়ন

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতাবিরোধী সম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে জেনারেল জিয়া তার দল বিএনপির ভেতর নিয়ে নেয় পাকিস্তানপন্থী সামরিক-বেসামরিক আমলা, জঙ্গিবাদী মুসলিম লীগ, দক্ষিণপন্থী ও প্রতিক্রিয়াশীল চক্রকে। ১৯৭৯ সালে, লোক দেখানো এক নির্বাচনের মাধ্যমে, রাজাকার চক্রকে জাতীয় সংসদে অধিষ্ঠিত করে জিয়াউর রহমান। এমনকি কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানায়। অথচ দালাল আইনে তাকে দণ্ড দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কারণ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিরা নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে, শেষ চেষ্টা হিসেবে যে ষড়যন্ত্র করে, সেটার ক্রীড়নক ছিল এই আজিজুর রহমান। নভেম্বর মাসে জাতিসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেয় সে এবং বাংলাদেশে পাকিস্তান হানাদার কর্তৃক গণহত্যার কথা অস্বীকার করে। এমনকি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে অন্যান্য মুসলিম দেশের প্রতিও আহ্বান জানায়। এমন একটি মানুষকে ১৯৭৯ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানায় তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান। আর, মুক্তিযোদ্ধা সেনাদের ওপর চালায় বিনাবিচারে হত্যাযজ্ঞ।

    এটি সর্বজনবিদিত যে, ১৯৭৯ সালে জিয়ার লোকদেখানো নির্বাচনে বিএনপির ৩০০ প্রার্থীদের মধ্যে ২৫০ জনই ছিল চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী। স্বাধীনতার পর দালালির অভিযোগে এরা অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিল। এদের দিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করে জিয়াউর রহমান। মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের জাতীয় সংসদে একইসঙ্গে বসতে বাধ্য করে সে। তার কুখ্যাত রাজাকার মন্ত্রীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয় মসিউর রহমান যাদু মিয়াকে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের ঠিকাদারি করে অনেক টাকার মালিক হয়েছিল এই যাদু মিয়া। বঙ্গবন্ধু তাকে বিচারের মুখোমুখি করলেও, ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট তাকে জেল থেকে ছেড়ে দেয় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা।

    জিয়ার অন্য রাজাকার মন্ত্রীদের মধ্যে খন্দকার আবদুল হামিদ বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত হিসেবে সন্দেহভাজনদের একজন। এই লোক পরবর্তীতে ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘মর্দে মুমীন’ নামে উপ-সম্পাদকীয়তে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন উদ্যোগের বিরুদ্ধে লিখতো। সামসুল হুদা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তান বেতার থেকে অনুষ্ঠান প্রচার করেছিল। আব্দুল আলিম ১৯৭১ সালে উত্তরাঞ্চলের জয়পুরহাটে সংখ্যালঘুদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের কারণে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল। মির্জা গোলাম হাফিজ মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবৃতি দিয়ে বলেছিল, ‘বাংলাদেশের এই তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ আসলে একটি ভারতীয় ষড়যন্ত্র।’ আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পক্ষে এবং মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এদের মতো বাংলাদেশবিরোধীরা জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী হওয়ায় আবারো সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

    উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে লালন-পালন করে বেড়ে তোলা

    ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান সামরিক ফরমান দিয়ে হাজার বছরের সম্প্রীতির ভিত্তি ‘বাঙালি জাতীয়বাদ’-এর অস্তিত্ব অস্বীকার করে। এমনকি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদ বাতিল করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথ উন্মোচন করে। ফলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু হয় এবং উগ্রবাদের বিস্তার ঘটে।

    এছাড়াও সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদ তুলে দিয়ে দালালদের ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়, যা ১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল সংবিধানের নবম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনে পরিণত করে জিয়াউর রহমান। এমনকি সংবিধান কাটাছেড়া করে এই দালালদের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগও করে দেয় সে। ফলে স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ, জামায়াত, পিডিপিসহ ধর্মভিত্তিক উগ্র-সাম্প্রদায়িক দলগুলো তৎপরতা শুরু করে। দাপটের সঙ্গে সমাজে পুনর্বাসিত হয় যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর সদস্যরা।

    জিয়াউর রহমানের কারণেই রাজাকারদের সর্দার গোলাম আজম ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে এবং থেকে যায়। এমনকি পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে জামায়াতের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করে। জিয়ার মদতে এবং গোলাম আজমের নেতৃত্বে, এসময় থেকে দেশজুড়ে উগ্রবাদী কার্যক্রম শুরু করে জামায়াত। বিএনপির সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকেই, রগকাটা রাজনীতির এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করে গোলাম আজমের ব্রেন চাইল্ড শিবিরের নেতা-কর্মীরা।

    বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত

    বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজমন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের মূল স্লোগান ‘জয় বাংলা’কে নিষিদ্ধ করে জিয়াউর রহমান। এর বদলে সে পাকিস্তানি স্টাইলে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ অনুকরণ করে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান চালূ করে। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে। ১৯৭৯ সালে সংসদে দাঁড়িয়ে জিয়ার প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ‘বাংলা ভাষা’র নাম বদল করে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ হিসেবে নতুন নামকরণ করে। এর কারণ, বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল ভিত্তি রচিত হয়েছিল এই বাংলা ভাষার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এবং জয় বাংলা স্লোগানের মাধ্যমেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পুরো বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ হয়ে উঠেছিল। তাই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এসব বদলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালালো।

    শুধু তাই নয়, জাতীয় সংস্কৃতি বদলে দেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ বেতার’ নামটিও পরিবর্তন করে জিয়াউর রহমান। এর নতুন নাম দেওয়া হয় ‘রেডিও বাংলাদেশ’। হাজার বছরের ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর চেতনা মুছে ফেলে নতুন করে বলা শুরু করে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।

    এমনকি, ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে জেনারেল জিয়া জাতীয় পতাকা পর্যন্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করে। ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ‘সবুজ জমিনে কমলা রঙের বৃত্তের’ নতুন জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এই পরিবর্তনকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠলে, জিয়া আবার পুরনো পতাকাকে ফিরে যায়।

    সরকারের জাতীয়করণ করা সম্পদ পাকিস্তানকে প্রদান

    স্বাধীনতার পর, এখান থেকে শুষে নিয়ে যাওয়া সম্পদের ন্যায্য হিস্যা চান বঙ্গবন্ধু। এজন্য পাকিস্তানিদের কাছে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দাবি করেন তিনি। তারা তা না দেওয়ায়, এদেশে থাকা পাকিস্তানিদের সম্পদ জাতীয়করণ করে বঙ্গবন্ধুর সরকার। এবং একইসঙ্গে নিজেদের পাওনায়া বুঝে পেতে দেন-দরবার চালিয়ে যান বঙ্গবন্ধু।

    কিন্তু জিয়া ক্ষমতা দখল করে বাঙালির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ে উল্টোপথে হাঁটেন। এমনকি বাংলাদেশে পাকিস্তানের যেসব সম্পত্তি জাতীয়করণ করা হয়েছিল, জিয়া সেগুলো পাকিস্তানে ফিরিয়ে দেন। ক্ষেত্রবিশেষ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও দেন। তার পাকিস্তানপ্রেম এতো প্রকাশ্য ও তীব্র ছিল যে, পাকিস্তানিরা বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যোগ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তান সফরে যায়, তখন পাকিস্তানের সংবাদপত্রে বলা হয়- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে একটি ‘কনফেডারেশন’ গঠনে আগ্রহী।

    রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা উপহার

    একাত্তরের খুনি-ধর্ষক-রাজাকারদের বাংলার মাটিতে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি হন প্রধানমন্ত্রী। সেসময় স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই রাজাকারদের পদায়ন অব্যাহত রাখেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেন স্বাধীনতাবিরোধী আবদুর রহমান বিশ্বাসকে। এর আগে, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের এমপি ও মন্ত্রী ছিল সে। সে একজন তালিকাভুক্ত রাজাকার।

    শুধু তাই নয়, রাজাকার সর্দার গোলাম আজমের নিশ্চিত জীবনযাপনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এমনকি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন এবং পুরোদমে রাজনীতি করার সুযোগ দেন। অথচ দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু দালালদের ভোটাধিকার ও রাজনীতি করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে, জিয়াউর রহমানের সময় দেশে ফেরে গোলাম আজম। এরপর থেকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়াই সে দেশে অবস্থান করছিল এবং আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবেই সে বাংলাদেশের জামায়াতের প্রধান হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়। এসবের প্রতিবাদে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে প্রতিবাদ শুরু হয় দেশজুড়ে। কিন্তু খালেদা জিয়ার সরকার জাহানারা ইমাম ও মুক্তিযোদ্ধাদের দেশাদ্রোহী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করে। খুনি-ধর্ষকদের সর্দার গোলাম আজমের বিচার চাওয়ার দায়ে দেশাদ্রোহী পরিচয় নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।

    জিয়াউর রহমানের প্রধানমন্ত্রী ও আরেক কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আরাম-আয়েশ করে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকে।

    এদিকে, ২০০১ সালে আবারো সরকার গঠন করে বিএনপি। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে খালেদা জিয়া ১৯৭১-এর আল বদর ও আল শামস বাহিনীর দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদকে মন্ত্রিত্ব দেন। বাংলাদেশের পতাকাবাহী গাড়ি থেকে নেমে প্রকাশ্য গণমাধ্যমে মুজাহিদ দম্ভ করে বলে, ‘বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নাই।’ এসময় দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা বাড়তে থাকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্রের তকমা পায়।

    আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর, ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও ধর্ষণের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। কিন্তু খালেদা জিয়া বিভিন্ন জনসভায় এবং দলের বিবৃতিতে নিয়মিত তাদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। তাদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া থামানোর জন্য আন্দোলনের হুমকি দেন।

    এদিকে পাকিস্তানপ্রেমে স্বামীর চেয়ে পিছিয়ে নেই খালেদা জিয়াও। তিনি আরো একধাপ ওপরে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে সহিংসতা চালানো পাকিস্তানি কর্নেল জানজুয়া মৃত্যুর খবর পেয়ে, আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন খালেদা জিয়া। এখানে একটি ব্যাপার উল্লেখ না করলেই নয়, মুক্তিযুদ্ধের পর খুন-ধর্ষণ-লুটপাটের মতো ঘৃণ্য কর্মে যুক্তদের বিচারের জন্য ট্রাইবুনাল গঠন করেছিলেন তিনি। বাকিদের লঘু দণ্ড দিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান বন্দি থাকা দশ হাজারের বেশি খুনি-ধর্ষকদেরও ছেড়ে দিয়ে, তাদের অনেককে নিয়ে বিএনপি গঠন করে। তেমনি ভয়ানক অপরাধে যুক্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরও ১৯৫ জনকে বিচারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার যে পাকিস্তানি সেনার জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শোকাহত হয়ে পড়েছিলেন, এই জানজুয়া হত্যা-ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ১৯৫ জন পাকিস্তানি জান্তার অন্যতম একজন।

    দেশজুড়ে জঙ্গিবাদের বিস্তার

    ২০০১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিকল্প সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলে তার ছেলে ও বিএনপি নেতা তারেক রহমান। হাওয়া ভবনে বসে আন্তর্জাতিক জঙ্গি চক্রের সঙ্গে অপতৎপরতায় লিপ্ত হয় সে। এমনকি বঙ্গবন্ধুকন্যা ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার পটভূমি রচনা করে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলায় অংশ নেয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নেতারা। বিএনপি নেতা ও মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর তৎকালীন মহাপরিচালক, মাওলানা তাজউদ্দীন, মুফতি হান্নানরা এই হামলার আগে তারেকের সঙ্গে বৈঠক করে। পরবর্তীতে মামলার আসামিরা এসব স্বীকার করেছে।

    এমনকি মুফতি হান্নান ধরা পড়ার পর, ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা ব্যবহার করে মাওলানা তাজউদ্দীনকে ভিন্ন নামে পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়ে, বাংলাদেশ ছাড়ার ব্যবস্থা করে দেয় তারেক রহমান।

    বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক ও উগ্র রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য হেন কোনো অপচেষ্টা নাই, যা জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান করে নাই। তার খুনি চক্রের একজন মাজেদ ভাট জানায়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের লোকজনের কাছ থেকে সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা, তেহরিক-ই-জেহাদ ইসলামি, জয়শ-ই-মোহাম্মদ, আল বদর, হরকাতুল জিহাদ এবং তালেবানের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

    এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের পুরো মেকানিজম নিয়ন্ত্রণ করতো তারেক রহমান। পরবর্তীতে আদালতে এসব প্রমাণিত হওয়ায় সেই সময়ের শীর্ঘ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দণ্ডিত হয়েছে। তারেক রহমান পলাতক হিসেবে লন্ডনে আছে। কিন্তু রাজনৈতিক ডামাডোল সৃষ্টি করে, নিজের এসব অপকর্ম ঢাকা দিয়ে রাখার অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    ৫০ বছরের মধ্যে ১৫ বছর ধরে নৈরাজ্য চালায় বিএনপি

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে, প্রথম ২০ বছরের মাত্র সাড়ে ৩ বছর ছিল গণতন্ত্র। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর, টানা ১৫ বছর জিয়াউর রহমান ও এরশাদের মতো সামরিক শাসকদের হাতে জিম্মি হয়েছিল এই দেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে এই একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র ফিরলেও, ক্ষমতায় বসেন খালেদা জিয়া। সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমানের পাকিস্তানি ভাবধারার আদর্শে হৃষ্ট-পুষ্ট এই নাম-কা-ওয়াস্তের গণতন্ত্র আরো বেশি ক্ষতির কারণ হলো। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মোট দুই মেয়াদে, বিএনপির ১০ বছরে, দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠী পাকাপাকিভাবে খুঁটি গেড়ে বসে। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ বছরই ক্ষমতায় ছিল জিয়া-এরশাদ-খালেদা-তারেক চক্র। আর তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল খুন ও ধর্ষণের মাস্টারমাইন্ড স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের ঘৃণিত নেতাকর্মীরা।

    কিন্তু গত এক যুগ টানা সরকারে থেকে দেশকে তাদের হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যেভাবে সোনার বাংলা গড়োর উদ্যোগ নিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেছেন। মানুষের অর্থনৈতিক জীবন যেমন পরিবর্তন হয়েছে, তেমনি ভূলুন্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে এই সময়ে।

    কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ৈ এখনো নোংরা রাজনীতি করে যাচ্ছে বিএনপি। অথচ স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে, জিয়া পরিবারের নেতৃত্বে, বিএনপি ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ- হাজার বছরের বাঙালি সংষ্কৃতি- অসাম্প্রদায়িকতা- শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছিল। তাদের হাত রঞ্জিত হয়েছে শত শত মুক্তিযোদ্ধার রক্তে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ও জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল তারা।

    বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যার পর রাতারাতি ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে যে, সেই ব্যক্তির নাম জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলতে আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়ে যায় জিয়া গং। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসে নিজেকে সেনাবাহিনীর প্রধান ও উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সে। মূলত তখন থেকেই বন্দুক হাতে রাষ্ট্র চালাতে শুরু করে জিয়া। ১৯৭৭ সালে সে দখল করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ। এরপর দীর্ঘ মেয়াদে সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য, ১৯৭৮ সালে সেনানিবাসে বসে গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নিজেকে সবসময় একজন মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করলেও, স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান তার দলটি গঠন করে কুখ্যাত রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে সঙ্গে নিয়ে। এরপর আমৃত্যু বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী অপতৎপরতা চালিয়ে গেছে সে।

    শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একই পথে হেঁটেছেন, দেশজুড়ে তাণ্ডব চালানোর সুযোগ করে দিয়েছেন জামায়াত ও উগ্রবাদী দেশবিরোধী গোষ্ঠীকে। এমনকি তাদের ছেলে তারেক রহমান ছাড়িয়ে যাচ্ছিলো বাবা-মাকেও। আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশকে অস্থির করে তুলেছিল সে। এমনকি এখনো বিদেশে বসে দেশ নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে ওঠে এই বিএনপি নেতা।

    বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করে জাতীয়ভাবে ধিক্কৃত হয়ে; নিজের দুর্নীতি, জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতা ও হত্যার মিশনগুলো চাপা দিতে; বিএনপি তথা রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ব্যবহার করে লন্ডনে ফেরার হয়ে আছে সে। দলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের ঢাল হিসেবে, এখনও তারা সেই কাজই করে যাচ্ছে!

    লেখক : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • সুসময়ের চাটুকাররা দুঃসময়ে থাকে না

    সুসময়ের চাটুকাররা দুঃসময়ে থাকে না

    ৪ ডিসেম্বর ১৯৯০। সন্ধ্যা থেকেই টেলিভিশনে ঘোষণা করা হচ্ছিল রাতে উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রচারিত হবে। দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা। উত্তাল জনতা। এরশাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই কিছুই। দিনভর মিছিল, স্লোগানে প্রকম্পিত রাজপথ। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এরশাদের মন্ত্রী-এমপিদের গণপ্রতিরোধ। দেশে এক আন্দোলন উৎসবের আমেজ। এরশাদ কীভাবে পদত্যাগ করবেন, কীভাবে নির্দলীয় ব্যক্তি তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হবেন এ নিয়ে নানা আলোচনায় ভরপুর দেশ। তখন দেশে একটাই টেলিভিশন- বিটিভি। একটাই বেতার- রেডিও বাংলাদেশ। বিবিসি শুনি গোল হয়ে অনেকজন একসঙ্গে। এর মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কী বলবেন তা শোনার জন্য আমরা সবাই উদ্গ্রীব। এরশাদ সাক্ষাৎকার দিলেন কেতাদুরস্ত ভঙ্গিতে। তার হাসির মধ্যে কতটা সততা আর কতটা শঠতা তা সব সময়ই এক রহস্য। ব্যারিস্টার মওদুদ সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কীভাবে বিরোধী দলের দাবি মেটানো সম্ভব তার ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন। এরশাদ ছুটিতে যাবেন, তিনি (ব্যারিস্টার মওদুদ) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হবেন। বিরোধী দলের পছন্দের ব্যক্তিকে উপরাষ্ট্রপতি বানাবেন। সংবিধান, আইনের কী চুলচেরা বিশ্লেষণ! এর মধ্যেই টেলিভিশনে স্ক্রল প্রচারিত হলো- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুহূর্তে উৎসবের নগরীতে পরিণত হলো গোটা ঢাকা, সারা দেশ। আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই রাস্তায় নেমে এলেন। এ যেন এক বিজয় উৎসব। মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। ৫ ডিসেম্বর তিন জোটের বৈঠক হলো ধানমন্ডিতে প্রয়াত বাকশাল নেতা মহিউদ্দিন আহমদের বাড়িতে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিন জোটের নেতারা একমত হলেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ঘোষণা করলেন, প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান।

    অনেকেই বলেন, ৪ ডিসেম্বর এরশাদের পদত্যাগের ঘোষণা ছিল একটি কৌশল। এরশাদ ভেবেছিলেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে বিভক্ত বিরোধী জোটগুলো ব্যর্থ হবে। এরশাদ আবার ফিরে আসবেন। কিন্তু সবকিছু ঘটে গেল মুহূর্তেই। কোনো জটিলতা ছাড়াই। অবশ্য সমস্যা আরও ছিল। বেঁকে বসলেন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর চাকরির মেয়াদ আরও ক’বছর ছিল। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতির পদ ছেড়ে এ দায়িত্ব নিতে তিনি ছিলেন দ্বিধান্বিত। এ সময় সংকট সমাধানে এগিয়ে এলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই প্রথম বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে ফোন করলেন। জাতির প্রয়োজনে তাঁকে দায়িত্ব গ্রহণে অনুরোধ জানালেন। তাঁর স্বপদে ফেরার বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করলেন। মূলত শেখ হাসিনার অনুরোধেই দ্রুত রাজি হলেন সাহাবুদ্দীন আহমদ।

    ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতন হলো। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ হলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করলেন এরশাদের ঘনিষ্ঠতম আমলা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম কে আনোয়ার। এরশাদের রাজত্বে সামরিক-বেসামরিক আমলাদের ক্ষমতার দাপট ছিল অকল্পনীয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এরশাদ মন্ত্রীদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দিতেন। আমলাদের ফ্লোর দিয়ে গভীর মনোযোগে তাদের কথা শুনতেন। এরশাদের জমানায় অনেক মন্ত্রী টেলিভিশন বা পত্রিকায় খবর দেখে অনেক সরকারি সিদ্ধান্ত জানতেন। আমলারাই তার বিশ্বস্ত ছিল। এরশাদ নয় বছর দেশ চালিয়েছেন সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের ওপর নির্ভর করে। বিদায়ের আগে এরশাদ সেনাপ্রধান নূরউদ্দীন খানের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু এরশাদের নিজের লোক সেনাপ্রধানও জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘সরি স্যার’। অনুগত, চাটুকার আমলারাই ছিল এরশাদের বিশ্বস্ত। রাজনীতিবিদদের এরশাদ সন্দেহের চোখে দেখতেন, বিশ্বাস করতেন না। শুধু তাই নয়, এরশাদের জমানা নিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বইয়ে জানা যায় তিনি রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিগ্রস্ত এবং মূর্খ মনে করতেন।

     

    এরশাদ আমলের শেষ দিকের ছবিগুলো দেখলে দেখা যায়, এম কে আনোয়ার এবং আমলারা যেন ছায়ার মতো। যেখানেই এরশাদ সেখানেই আমলারা। কিন্তু এরশাদের পতনের এক মাসের মধ্যেই তিনি সটকে পড়লেন। প্রথমে আওয়ামী লীগের দরজায় টোকা দিলেন। বলে রাখা ভালো, এরশাদের পতনের আগেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আট দল, বিএনপির নেতৃত্বে সাত দল ও জাসদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ দল কয়েক দফা বৈঠক করেছিল। আগামীর সরকার কেমন হবে এ নিয়ে এক রূপরেখাও প্রণয়ন করেছিল। একে বলা হয় ‘তিন জোটের রূপরেখা’। সিপিবি কার্যালয়ে চূড়ান্ত হয়েছিল এ ঐতিহাসিক দলিলটি। সংসদীয় গণতন্ত্র, বেতার-টেলিভশনের স্বায়ত্তশাসন, সব কালাকানুন বাতিলসহ বিভিন্ন অঙ্গীকার ছিল এ রূপরেখায়। তিন জোটের রূপরেখায় বলা হয়েছিল, স্বৈরাচার এরশাদের সহযোগী কাউকে তিন জোটের কেউ কোনো দলে নেবে না। এরশাদের পতনের পর সম্মিলিত ছাত্রঐক্য এরশাদের দালালদের তালিকা প্রকাশ করেছিল। ওই তালিকায় আমলাদের মধ্যে প্রথম নামটা ছিল এম কে আনোয়ারের। এরশাদের পতনের এক মাসের মধ্যে এম কে আনোয়ার এবং কেরামত আলী- কেতাদুরস্ত এ দুই আমলা উল্টে গেলেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তিন জোটের রূপরেখাকে সম্মান জানিয়ে তাদের পত্রপাঠ বিদায় করে দিলেন। কিন্তু এরশাদের সুসময়ের চাটুকার এ দুই আমলা অবলীলায় ঝাঁকের কইয়ের মতো মিশে গেলেন বিএনপিতে। কোথায় অঙ্গীকার, কোথায় তিন জোট। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জয়ী হওয়ার পর এটাই ছিল প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। সে প্রসঙ্গ নিয়ে এ লেখায় আলোচনা করব না।

    এরশাদের প্রিয় পাত্র, সুসময়ে এরশাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী দুই আমলা দুঃসময়ে এক মুহূর্তের জন্যও এরশাদের পাশে থাকলেন না। এরশাদের চরম বিপদে এতটুকু সহানুভূতি দেখালেন না। তখন নির্বাচন আইনে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। এখন যেমন অবসরের পর তিন বছর পর্যন্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন করতে পারেন না। সে সময় তেমনটি ছিল না। এম কে আনোয়ার ও কেরামত আলী দুজনই বিএনপির টিকিট পেলেন। ’৯১-এর নির্বাচনে বিএনপি সবাইকে চমকে দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকারও গঠন করল। এরশাদের দুই দোসর গণতান্ত্রিক সরকারে মন্ত্রী হয়ে গেলেন। সত্যি বিস্ময়কর। এরশাদ বিদায়ের আগে যেসব আমলাকে নিয়ে থাকতেন তারা কেউ এরশাদের পাশে দাঁড়াননি। মুহূর্তে তারা নিরপেক্ষ হয়ে যান।

    উপেক্ষিত মিজানুর রহমান চৌধুরী এরশাদের জাতীয় পার্টিকে আগলে রেখেছিলেন। ‘স্বৈরাচার এরশাদ’কে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদই। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন সুসময়ে এরশাদের জন্য কী না করতেন। এরশাদের মায়ের মৃত্যুর পর তার কান্না দেখে অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। কার মা মারা গেলেন- এরশাদের না শাহ মোয়াজ্জেমের? এরশাদকে খুশি করতে কি কুৎসিত, অরুচিকর, কদর্য কথাবার্তা বলতেন শাহ মোয়াজ্জেম। ‘দুই নারী মিলিত হলে কিছুই উৎপাদন হয় না’, কিংবা ‘পদত্যাগপত্র কি জিরো পয়েন্টে দিয়ে আসব?’ এ ধরনের অসৌজন্যমূলক ও অশালীন বক্তব্যের জন্যই আলোচিত হতেন তিনি। (ভাগ্যিস তখন এসব ফেসবুক, ইউটিউব ছিল না, তাহলে এসব কথা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যেত) সেই শাহ মোয়াজ্জেম কিন্তু এরশাদের দুঃসহ যাত্রার সঙ্গী হননি বেশি দিন। সুযোগ পেয়েই জার্সি বদল করেন। এখন মেয়াদোত্তীর্ণ নেতা হিসেবে বিএনপিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছেন। ব্যারিস্টার মওদুদও দুর্দিনে এরশাদের সঙ্গে বেশি দিন থাকেননি। এরশাদ যখন চরম আইনি সংকটে তখন তিনি বিএনপি-জামায়াত সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে জাতিকে জ্ঞান দিয়েছেন। এরশাদের চাটুকারদের খুব কমই আছেন এখন জাতীয় পার্টিতে। এটাই বোধহয় নিয়ম। যুগে যুগে।

    মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ার সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরের এক ক্লান্তিহীন সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকেও ঘিরে ফেলেছিল চাটুকাররা। খুনি মোশতাক ও খুনিচক্র বঙ্গবন্ধুর চারপাশে গিজগিজ করত। তাজউদ্দীন আহমদরা দূরে সরে গিয়েছিলেন। বাকি ইতিহাস কারও অজানা নয়। বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ছিলেন ফরাসউদ্দিন আহমেদ। ১৪ আগস্ট গণভবনে ফরাসউদ্দিন আহমেদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন ফরাসউদ্দিন। ওই অনুষ্ঠানে জাতির পিতা ছিলেন। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর শেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে তোফায়েল আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ৩২ নম্বরে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর ফরাসউদ্দিন কিছুই করেননি। বরং খুনি মোশতাকের অনাপত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন এইচ টি ইমাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তিনিই খুনি মোশতাকের অবৈধ মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

    জিয়া ক্ষমতায় থাকার জন্য কী না করেছেন। তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। বেছে বেছে মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের হত্যা করেছেন। সেনাপ্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছেন এরশাদকে। প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মতে, এরশাদের চাটুকারিতায় মুগ্ধ হয়েই জেনারেল শওকত, জেনারেল মঞ্জুরের মতো মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে বেছে নিয়েছিলেন পাকিস্তান-প্রত্যাগত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। ফল সবাই জানেন। জিয়ার হত্যাকান্ডের পর তার চারপাশের চাটুকাররাই এরশাদকে ক্ষমতায় আনার পথ তৈরি করেছিলেন।

    বেগম জিয়ার চারপাশে ছায়ার মতো থাকতেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। ফালুর রাজনৈতিক পরিচয় বেগম জিয়ার দান। আজ বেগম জিয়া অসুস্থ। আর ফালু দূরদেশে বিত্তের বৈভবে দিন কাটাচ্ছেন। বেগম জিয়ারও আমলাপ্রীতি কম ছিল না। দুই মেয়াদেই ড. কামাল সিদ্দিকী ছিলেন বেগম জিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত আমলা। প্রধানমন্ত্রীর সচিব, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব হয়েছিলেন একদা চৈনিক এই আমলা। ক্ষমতায় পালাবদল হতেই পালিয়ে গেলেন। বেগম জিয়ার দুঃসময়ে তার টিকিটিও কেউ পায়নি। এখন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। খাচ্ছেন, দাচ্ছেন, চকচক ব্লেডে দাড়ি কামাচ্ছেন। বেগম জিয়ার জেল, অসুখ তাকে কি বিচলিত করে?

    হারিছ চৌধুরীর কথা মনে আছে? কী ক্ষমতাবান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তার ভয়ে ব্যবসায়ীরা তটস্থ থাকতেন। ওয়ান-ইলেভেনে বেগম জিয়াকে ফেলে পালিয়ে গেলেন। শোনা যায়, এখন অবৈধ অর্থে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন।

    ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনলেন শেখ হাসিনা। ’৯০-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ছুটে গেলেন জাতির পিতার দুই বোন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন। শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পদটিকে নিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীনকে যে সম্মান ও মর্যাদা শেখ হাসিনা দিয়েছেন তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি অনন্য উদাহরণ। কিন্তু বিচারপতি সাহাবুদ্দীন দুঃসময়ে শেখ হাসিনার পাশে থাকেননি। এমনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরও তাঁকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতেও শুনিনি। আওয়ামী লীগ সরকারে যেসব আমলার বাড়বাড়ন্ত ছিল বিএনপি আমলে তাদের অনেকের আসল চেহারা প্রকাশ হয়।

    বাংলাদেশে ক্ষমতা বলয়ে সারাক্ষণ ঘোরাফেরা করে সুবিধাবাদী চক্র। সুসময়ের এই অতিভক্তরা দুঃসময়ে থাকে না। আওয়ামী লীগ টানা ১৩ বছর ক্ষমতায়। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের আজকের এ সুসময়ের প্রধান সেনাপতি তিনিই। আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত ভয়ডরহীন বিপুল কর্মী। যারা লোভহীন, ত্যাগী। যাঁরা শুধু বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশায় জীবন-যৌবন উৎসর্গ করেছেন। ’৭৫-পরবর্তী সময়ে এঁরা জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। অনেকে পিতা হারিয়েছেন, ভাই হারিয়েছেন। মাঝেমধ্যে এঁদের জীবনকাহিনি শুনলে চমকে উঠি। দুঃসময়ের এই কর্মীরা কিংবা সেই পরিবারগুলো কি আওয়ামী লীগের মূলধারায় আছে? নাকি আওয়ামী লীগ দখল করে নিয়েছে সুবিধাবাদী চাটুকাররা? আজ দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ টইটম্বুর। এত আওয়ামী লীগ এলো কোত্থেকে? দুঃসময়ে এরা কই ছিল? আবার খারাপ সময়ে এরা কই থাকবে? কোনো দিন রাজপথে মিছিল না করে, জেল-জুলুম-নির্যাতন না সয়ে যে ব্যক্তিটি এখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সে দুঃসময়ে কোথায় থাকবে, কানাডা না মার্কিন মুলুকে?

    বাংলাদেশে ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হয়েছেন যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সন্তানরা। নৌকার টিকিট পেয়ে তারা এখন ভেংচি কাটছেন। জিয়ার সাফারি পরা ব্যক্তি এখন মুজিবকোট পরেন। আয়নায় তার চেহারা দেখে নিজেই হয়তো লজ্জা পান। এত চাটুকার, এত মতলববাজ এখন আওয়ামী লীগে যে আসল-নকল খুঁজে বের করাই দায়। দুঃসময়ের কান্ডারিরা এখন যেন হাল ছেড়ে দিয়েছেন। নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। কঠিন সময়ের বন্ধুরা সুসময়ে যখন দূরে সরে যায়, তখন তা দুঃসময়ের আগমনি বার্তা শোনায়। এখন ভুঁইফোঁড় রাজনীতিবিদ, আদর্শহীন সুযোগসন্ধানী আমলা ও মতলববাজ চক্র চাটুকারিতার মেলা বসিয়েছে, দুঃসময়ে তারা থাকবে না। সুসময়ের চাটুকাররা দুঃসময়ে পালায়। এরা দেশের জন্য ভাবে না, দলের জন্য ভাবে না, নেতার কথা চিন্তা করে না। আজ এরা যা কিছু করে সব নিজেদের জন্য। সুসময়ের চাটুকাররা স্মার্ট। এরা তৈলমর্দনে অসাধারণ। এরা ন্যায়-অন্যায় বোঝে না। পরিণতির কথা ভাবে না। এরা সাহস করে সত্য কথা বলে না। বাস্তবতা আড়াল করে এরা সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে চায়। একটা রঙিন ফ্রেমে বাস্তবতাকে স্বপ্নলোকের মেকি আবরণ দিতে চায়। এদের উপদ্রব সুসময়ে বাড়ে। যখন আওয়ামী লীগের সুসময়ে অতিথি পাখির ভিড় তখন প্রশাসনে নব্য আওয়ামী লীগের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারের চারপাশে শুধু সুবিধাবাদী, ধূর্তদের আনাগোনা। সব দেখে-শুনে চোখ বন্ধ করি। মস্তিষ্কে মুকুল দত্তের লেখা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া গানটি বেজে ওঠে- ‘বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও… ভুলো না তাকে ডেকে নিতে…’।

    লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।

  • মন চাইছে আত্মহত্যা ক‌রি, কোন দে‌শে আছি?

    মন চাইছে আত্মহত্যা ক‌রি, কোন দে‌শে আছি?

    ডি‌সেম্বর বানান বাংলায় লেখার কারণে একটি ব্যাংক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের চেক ফেরত দিয়েছে। এ নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রী তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ নিয়ে একটি পোস্ট করেন।

    আজ বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে পোস্ট করা ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, মন চাইছে আত্মহত্যা ক‌রি। এক‌টি চে‌কে আমি ডি‌সেম্বর বাংলায় লি‌খে‌ছি বলে কাউন্টার থে‌কে চেক‌টি ফেরত দিয়েছে। কোন দেশে আছি? এমন পোস্ট করার পর এটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।

    বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানকে খাটো করতে এই স্ট্যাটাস দিইনি। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এটি করেছি। কারণ, বাংলাদেশই একমাত্র ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র। ভাষার জন্যই এই রাষ্ট্রের জন্ম। আগে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বাংলা কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এখন সেই অবস্থা নেই।’

    এদিকে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই থেমে জাননি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তিনি স্ট্যাটাসে আসা নানা মন্তব্যের জবাবও দিয়েছেন। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে সবাইকে প্রতিবাদ করতে বলেছেন। পোস্টটি প্রকাশের তিন ঘণ্টার মধ্যে ৭ হাজারের বেশি মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

  • তারপরও আমি চাই খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠুক …

    তারপরও আমি চাই খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠুক …

    খালেদা জিয়ার সরকার ১৯৯৪ সালে লোকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছি এই অভিযোগ করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    আমার লেখা লজ্জা, উতল হাওয়া, ক, সেইসব অন্ধকার একে একে নিষিদ্ধ করেছিল। ছলে বলে কৌশলে আমাকে দেশ থেকে বের করেছিল। দেশে আর প্রবেশ করতে দেয়নি।

    তারপরও আমি চাই খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে চায় শুভাকাঙ্ক্ষীরা, নিয়ে যাক। তারপরও আমি চাই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • রেহানাকে নারীবাদী হিসেবে দেখানো ভুল

    রেহানাকে নারীবাদী হিসেবে দেখানো ভুল

    প্রথম কানে গিয়েছে বাংলাদেশের কোনও ছবি, খুব স্বাভাবিক যে সে ছবিটি দেখার আগ্রহ খুব হবে আমার। ছবিটি দেখার সৌভাগ্য হলো কাল রাতে। রেহানা মরিয়ম নূর। ছবিটির প্রধান চরিত্রে আমার মনে হয়নি আছেন কোনও সৎ বা উদার কোনও মানুষ। প্রথম থেকেই তিনি রগচটা, রুক্ষ, স্বার্থপর, একগুঁয়ে ও আত্মকেন্দ্রিক।

    ধার্মিক রেহানাকে যদি নারীবাদী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে ভুল। নারীবাদীদের সংবেদনশীল হতে হয়। যত না সংবেদনশীল তিনি, তার চেয়ে বেশি প্রতিশোধপরায়ণ। তাঁর জন্য কোনও শ্রদ্ধা বা সহানুভূতি জন্মায়না।

    ছবিটি ডেনিশ ডগমা ফিল্মের মতো হাত-ক্যামেরায় শুট করা। টানা মিড-শট। বারবারই জনমানবহীন হাসপাতালের একই করিডোর, একই ঘোলা ঘর, একই সংলাপ, একই চেহারা, একই এক্সপ্রেশন। কোনও আউটডোর নেই। কোনও আকাশ বাতাস নেই। শ্বাস নেওয়ার জায়গা নেই।

    ছবিটি পূর্ণদৈর্ঘের না হয়ে কুড়ি পঁচিশ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘের হলে ভালো হতো। অথবা ছবি না হয়ে কোনও ডার্ক নাটক হলে ভালো হতো। সিনেমার বড় পর্দায় না দেখিয়ে মঞ্চে দেখালে ঠিক হতো।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • এবার আওয়ামী লীগ হেরেছে-আওয়ামী লীগের কাছে

    এবার আওয়ামী লীগ হেরেছে-আওয়ামী লীগের কাছে

    ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা, নৌকা মার্কার বিপরীতে আজীবন নৌকা মার্কার কর্মী অথচ নির্বাচনে নৌকা মার্কা না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়া -গোলমাল লাগছে? গোলমালের কিছু নেই। ভাবনা এবার ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে।

    ২০৬ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মত শক্তিশালী দল নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হারবে কেন? অর্থ পরিস্কার -সেই বিদ্রাহী প্রার্থীর টাকার জোড় ছিল না কিন্তু তিনি ছিলেন এলাকায় জনপ্রিয়, তিনি কোন নেতা, এমপি’র পকেটে যাননি তিনি জনগণকে ভালোবেসে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করেছেন। তাই দল নিয়ে ব্যবসা করা’রা জানুক- এবার আওয়ামী লীগ হেরেছে-আওয়ামী লীগ এর কাছে। আপনাদের কারণে।

    মনোনয়ন দেবার সময় বাণিজ্যের কাছে হার মেনেছে জনপ্রিয়তা অনেক খানে। অন্যদিকে দিনশেষে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় মানুষটিই জয়ী হয়েছেন- আওয়ামী লীগ তো হারেনি। মনোনয়ন বাণিজ্য পরাজিত  হয়েছে (একই কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যও) সকলের কথা বলছি না কিন্তু যে সব আতি ও পাতি ও মহা নেতারা অর্থের কাছে নৌকাকে বিক্রি করেছেন-তারা বঙ্গবন্ধুর সাথেও বেঈমানী করেছেন।

     

    মনোনয়ন বাণিজ্য এভাবেই পরাজিত হোক।

    জয় বাংলা। ধন্যবাদ তাদের যারা আজীবন আওয়ামী লীগ করা ত্যাগী জনপ্রিয় প্রার্থীকে জয়ী করেছেন।আপনাদের দ্বারাই বন্ধ হবে মনোনয়ন বাণিজ্য।

    আপনার কাছে ক্ষমা চাই বঙ্গবন্ধু। যে দলকে শক্তিশালী করার জন্য আপনি মন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন (নৌকাকে মজবুত করতে) আজ কিছু নেতার বাণিজ্য আপনার আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। আপনার সেই দলকে বিব্রত করেছে। দলকে ভালোবাসি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করি মনে প্রাণে – তাই চুপ থাকতে পারি না। দেখেও না দেখার ভান করতে পারি না।

    আপনারা, যারা এভাবে দলকে অপমান করলেন, তাদের ক্ষমা নেই। অর্থের কাছে বিক্রি করলেন প্রার্থিতা! দলের জয় পরাজয়! আপনারা আর যাই হোন-কখনো দলকে ও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেছেন -এ কথা বলবেন না।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  • অনলাইন ভায়োলেন্স প্রতিরোধে কানাডায় নতুন উদ্যোগ

    অনলাইন ভায়োলেন্স প্রতিরোধে কানাডায় নতুন উদ্যোগ

    অনলাইন ভায়োলেন্স। দ্য কানাডিয়ান এসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (সিএজে) এর  প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট জলির ইমেইলটা পড়তে পড়তে এই শব্দটায় চোখ আটকে গেলো। অনলাইনে ঘৃণা- বিদ্বেষ ছড়ানো, কুৎসা ছড়ানো, চরিত্র হনন- এই শব্দগুলো এতোদিন ব্যবহৃত হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে ভায়োলেন্স- সন্ত্রাস। অনলাইন ভায়োলেন্স- মানে অনলাইনে সন্ত্রাস।

    সাংবাদিকদের অনলাইন সন্ত্রাসের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে সিএজে কাজ করে যাচ্ছে গত কয়েক মাস ধরেই। সরকারের সাথে, পুলিশের সাথে এ নিয়ে তারা দেন দরবারও করছে। আজ জানালো ‘কোয়ালিশন এগেইনস্ট অনলাইন ভায়োলেন্স’ নামের একটি মোর্চার সাথে যুক্ত হয়েছে সিএজে। তার মানে অনলাইন ভায়োলেন্স এখন বিশ্বব্যাপী মনোযোগ এবং উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ফেসবুক, ইউটিউব নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সংসদে আইন প্রণয়নের পক্ষে কানাডার লিবারেল সরকারের অন্যতম একটি প্রধান যুক্তি হচ্ছে, সমাজে কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার হলে, সহিংসতার শিকার হলে তিনি পুলিশের স্মরণাপন্ন হতে পারেন, আইনের প্রতিরক্ষা পেতে পারেন। অনলাইন বা ভার্চ্যুয়াল  জগতে হয়রানির, সহিংসতার শিকার যে কোনো নাগরিকেরও পুলিশের স্মরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত, অনলাইন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার এখতিয়ার পুলিশের থাকা উচিত। নতুন সংসদে লিবারেল এই বিলটি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে।

    সেটি তো গেলো সরকারের কথা। কানাডার সাংবাদিকদের সংগঠন সিএজেও সদস্য সাংবাদিকদের অনলাইন সন্ত্রাস থেকে প্রটেকশন দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।দেশে দেশে সাংবাদিকরা অনলাইন ভায়োলেন্সের শিকার হচ্ছেন, চরিত্র হননের শিকার হচ্ছেন- এগুলোর বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে- এটাই হচ্ছে আশার খবর।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

    লেখক : প্রকাশক ও সম্পাদক, নতুন দেশ ডটকম

  • এবার মেসি ও তালেবানকে নিয়ে শার্লি হেবদোর বিতর্কিত কার্টুন

    এবার মেসি ও তালেবানকে নিয়ে শার্লি হেবদোর বিতর্কিত কার্টুন

    আবারও বিতর্কের জন্ম দিল ফ্রান্সের সাপ্তাহিক রম্য সাময়িকী ‘শার্লি হেবদো’। এবার তাদের প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে আফগানিস্তান। এতে মেসি ও তালেবানি শাসনকে মিলিয়ে কার্টুন বানানো হয়েছে। বিতর্কিত ওই কার্টুনে, তালেবানি শাসনের অধীনে আফগান নারীদের লিওনেল মেসির জার্সি পরিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনীদের সঙ্গে ২০ বছর যুদ্ধের পর আফগানিস্তানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তালেবানদের ক্ষমতা দখল ও পিএসজিতে মেসির চুক্তির যোগসূত্র তৈরি করে এমন প্রচ্ছদ ছাপাল শার্লি হেবদো।

    মহানবী (সা.)কে নিয়ে ব্যঙ্গ করায় ২০১৫ সালে এই পত্রিকার বার্তাকক্ষে সম্পাদক ও তিন কার্টুনিস্টসহ ১২ জনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

    এবার তারা ইসলামী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীদের আর্থিক জোগান দেওয়ায় অভিযুক্ত কাতারের আমির পরিবারের সঙ্গে পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসির আল খেলাইফির সম্পর্ককে সবার সামনে তুলে ধরেছে।

    কার্টুনে দেখানো হয়েছে, তিনজন নারী (সম্ভবত) বোরখা পরে আছেন, আর তাদের পিঠে মেসির নাম ও ৩০ নম্বর লেখা আছে, যেই জার্সি পিএসজিতে পরবেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। প্রচ্ছদের শিরোনামে লেখা, ‘তালেবান, তারা আমাদের ধারণার চেয়েও খারাপ।’

    তবে শার্লি হেবদোর এই প্রচ্ছদ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি পিএসজি। সূত্র: মার্কা

  • ‘বিয়ে করেছি, চুরি-ডাকাতি-খুন-ধর্ষণ তো আর করি নাই’

    ‘বিয়ে করেছি, চুরি-ডাকাতি-খুন-ধর্ষণ তো আর করি নাই’

    কি যে একটা সমস্যায় আছি! বিয়ে করেছি, ২য় বিয়ে। হালাল সম্পর্ক, বৈধ সম্পর্ক। চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ তো আর করি নাই।

    নতুন বউ এর সাথে হাসি খুশি ছবি দিলে কমেন্ট করতেসে এত নির্লজ্জ কেন আপনি, ২য় বিয়ে করসেন আবার বউ এর সাথে ছবি দেন। একা ছবি দিলাম তাতেও সমস্যা, বিয়ের পর একা ছবি কেনো?
    আমার বিড়াল এর সাথে ছবি দিলাম সেটাও সমস্যা।
    এক হাজারের উপরে ছবি তুলেছি। গালি খাওয়ার ভয়ে পোস্ট করতে পারছি না। আমার এত ছবি লইয়া আমি এখন কোথায় যাইবো।

    (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)