নিজস্ব প্রতিবেদক: শহরের কোলাহল তখন নিস্তব্ধতার চাদরে ঢাকা। ঘড়ির কাঁটা বলছে রাত ন’টা পেরিয়েছে। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে মানুষ যখন ঘরে ফিরে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই মদন পৌরসভার একটি ভাড়া বাসার সামনে চলছিল সর্বনাশা মাদকের রমরমা বিকিকিনি। তবে রাতের অন্ধকার আর বেশিদূর গড়াতে পারেনি। পুলিশের এক ঝটিকা অভিযানে ভেঙে যায় মাদকের সেই গোপন আসর। আধা কেজি গাঁজা ও নগদ টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন মো. গোলাপ মিয়া (৫০) নামের এক কারবারি।
ঘটনাটি গতকাল রবিবারের। মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল দেওয়ান বাজার এলাকায় রাত্রিকালীন মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল। রাত ৯টা ৫ মিনিট; গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের কাছে খবর আসে, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীরপুর মিতালী রোডের কদল মিয়ার বাড়ির সামনে তিন ব্যক্তি অবৈধভাবে গাঁজা বেচাকেনা করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহ উদ্দিন করিমকে জানানো হয়।
ওসির নির্দেশনায় এসআই হাসানুর রহমান, এএসআই মো. খোরশেদ আলম, এএসআই মো. লোকমান হেকিম এবং কনস্টেবল মো. শাহীনুর রহমান ও মো. পলাশ মিয়াকে নিয়ে গঠিত দলটি রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই অন্ধকারে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে কারবারিরা। এ সময় ধাওয়া করে গোলাপ মিয়াকে আটক করা গেলেও বাকি দুজন রাতের আঁধারে সটকে পড়ে।
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়া অপর দুই সহযোগী হলেন- মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাসনপুর গ্রামের মৃত আ. রাজ্জাক পুলিশ মিয়ার ছেলে মো. সাজু মিয়া (৫২) এবং একই গ্রামের মৃত আনফর আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩৮)।
আটক গোলাপ মিয়ার দেহ তল্লাশি করে পাওয়া যায় মাদক বিক্রির সুনিপুণ আয়োজন। তার ডান হাতে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে সাদা কাগজে মোড়ানো ৬৯টি পুরিয়ায় ৪৪০ গ্রাম এবং সবুজ পলিথিনে মোড়ানো ৬০ গ্রামসহ আধা কেজি গাঁজা জব্দ করে পুলিশ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, আসামির পরনে থাকা লুঙ্গির কোঁচড় থেকে বের করা হয় মাদক বিক্রির নগদ সাত হাজার টাকা। খুচরা টাকার মধ্যে ছিল একটি এক হাজার টাকার নোট, চারটি ৫০০ টাকার নোট, ছয়টি ২০০ টাকার নোট, ২৬টি ১০০ টাকার নোট এবং চারটি ৫০ টাকার নোট।
গ্রেফতারকৃত গোলাপ মিয়া জাহাঙ্গীরপুর মিতালী রোড এলাকার মৃত শামছুদ্দিন ও সখিনা দম্পতির ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, পলাতক সাজু ও ফারুকের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তবে কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাঝেই দেখা যায় পুলিশের মানবিক রূপ। কিছুদিন আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে গোলাপ মিয়ার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ মানবিক কারণে রাতেই তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে তাকে নিয়েই পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (২ নভেম্বর) প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১০ মিনিটে) এসআই হাসানুর রহমান বাদী হয়ে গোলাপ মিয়া ও পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে মদন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
সার্বিক বিষয়ে মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহ উদ্দিন করিম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা ও নগদ টাকাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার দুপুরের দিকে তাকে নেত্রকোনা জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলার পলাতক অপর দুই আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।


