কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বেসরকারি আইপি টিভি ‘রূপসী বাংলা’র জেলা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কেন্দুয়ার রাজপথ। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে কেন্দুয়া-নেত্রকোনা আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা স্বাধীন গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি চরম আঘাত। বক্তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারীসহ সকল জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। দেশে একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও বিচার না হওয়ার যে অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, নিহত সাংবাদিক আলিফের দুটি ছোট শিশুসন্তান রয়েছে। তার অকাল প্রয়াণে স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা ও অবুঝ দুই শিশুর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের ভরণপোষণ ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়।
কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ কামাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাখাল বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক কিশোর কুমার শর্মা, সিনিয়র সদস্য হারেছ উদ্দিন ফকির, বিজয় রজক, আশরাফ উদ্দিন ভূইয়া এবং সদস্য মুজিবুর রহমান কিবরিয়া।
এ ছাড়া সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান বাঙ্গালী, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরা আক্তার লিলি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার ও সাংবাদিক সালাউদ্দিন সালামসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যতম সন্দেহভাজন অপূর্বকে গ্রেপ্তার করেছে।


