আটক, বিচার ও দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানত না বাংলাদেশ দূতাবাস, কনস্যুলার অধিকার নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | The Mail BD
সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় কূটনৈতিক ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের আটক, বিচার কিংবা দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে আগে থেকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র। এ ঘটনায় সৌদি আরব আন্তর্জাতিক কনস্যুলার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, মক্কার একটি মসজিদে কথিত ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছিল। তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ১৪ অক্টোবর দণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।
ভিয়েনা কনভেনশনে কী বলা আছে?
বিদেশে আটক কোনো নাগরিকের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে Vienna Convention on Consular Relations। এর ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আটক বিদেশি নাগরিককে তাঁর দেশের কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার সম্পর্কে জানাতে হয়। ওই ব্যক্তি কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অযথা বিলম্ব না করে বিষয়টি জানাতে হবে এবং কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ দিতে হবে।
তবে এই বিধানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে অবশ্যই আগাম জানাতে হবে, এমন সার্বিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। আইনি প্রশ্নটি হলো, দুই বাংলাদেশি তাঁদের কনস্যুলার অধিকার সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন কি না, দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেছিলেন কি না এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ কনভেনশনের প্রযোজ্য বিধান মেনেছিল কি না। মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য থাকলে কনভেনশনের ৩৭ অনুচ্ছেদেও কনস্যুলেটকে অবহিত করার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ কী বলছে?
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ১৪ অক্টোবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ঘটনার পূর্ণ বিবরণ না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। দুই ব্যক্তির পরিচয়, মামলার বিবরণ এবং তাঁদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়েও স্পষ্ট তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ দূতাবাসকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা হয়ে থাকলে কনস্যুলার অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে বিষয়টির চূড়ান্ত আইনি মূল্যায়নের জন্য আটক, বিচার ও কনস্যুলার যোগাযোগের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা মিলতে পারে।


