নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। সুন্দর সমাজ গড়তে হলে তোমাদেরই সবার আগে সচেতন হতে হবে।’ নেত্রকোনার কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে সোমবার সকালে আয়োজিত সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এভাবেই উদ্দীপ্ত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে শিক্ষার্থীদের শুধু সচেতন হওয়াই নয়, বরং অপরাধ দমনে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মাহমুদ হাসান। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এবং সামাজিক অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলতে এ ধরনের আলোচনা সভা দারুণ তাৎপর্য বহন করে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীসমাজ।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পুলিশ সুপারের সরাসরি ও হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইভটিজিং অত্যন্ত জঘন্য ও ঘৃণিত একটি অপরাধ। এর নির্মম শিকার হয়ে অনেক সম্ভাবনাময় মেয়ের শিক্ষাজীবন এবং লালিত স্বপ্ন অকালেই থেমে যায়। তাই কোথাও এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হলে বা দেখলে ভয় না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করতে হবে কিংবা নিকটস্থ থানাকে জানাতে হবে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের শিক্ষা, জীবন এবং ভবিষ্যতের সমস্ত স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয়। যদি কোনো শিক্ষার্থী তার কোনো সহপাঠীর বাল্যবিবাহের খবর পায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে যেন শিক্ষক বা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার তাগিদ দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদক পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি কেবল নিজে ধ্বংস হন না, তার সঙ্গে মা-বাবা এবং পুরো পরিবারকেও চরম মূল্য দিতে হয়। তাই ক্ষণিকের কৌতূহল বা বন্ধুদের বাজে প্ররোচনায় পড়ে কখনো মাদকের ছোঁয়াও যেন কেউ না মাড়ায়।’
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার অপরাধকে একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেসবুকে অপরিচিত আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ, অনলাইন গেম খেলে সহজে টাকা উপার্জনের প্রলোভন, কিংবা বিকাশে টাকা বা ব্যক্তিগত ছবি চাওয়ার মতো বিষয়গুলো মূলত সুক্ষ্ম প্রতারণার ফাঁদ। তাই নিজের ব্যক্তিগত ছবি, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি কখনোই অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু। ভয় নয়, সচেতনতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে, ভালো মানুষ হবে এবং দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপারের এমন সময়োপযোগী ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে দারুণ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।


