জলঢাকা ( নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার রাজাহাট এলাকার কয়েকটি স্থানে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব স্থান উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁঠালি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ দেশীবাই এলাকায় প্রায় ৫ থেকে ৬টি এবং জলঢাকা পৌরসভার বগুলাগাড়ী বোর্ডের ডাঙ্গা এলাকায় ২ থেকে ৩টি পয়েন্ট থেকে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে।
এসব স্থান সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থান থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ১০ থেকে ১২টি ট্রাক্টর-ট্রলিতে মাটি নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো জমিতে প্রায় ৩ থেকে ৫ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হয়েছে। এতে জমির উচ্চতা, সেচব্যবস্থা ও কৃষিকাজের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া মাটি পরিবহনের সময় সড়কে মাটি পড়ে ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আজহারুল বলেন, আমার পাশের ফসলি জমির মাটি কাটায় আমার জমি উঁচু হয়ে গেছে। পাশের জমির মাটি কাটা না হলে আমিও কাটতাম না। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমিও জমির মাটি বিক্রি করেছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন প্রথমে বিষয়টি জানেন না বলে জানান। পরে তিনি বলেন, এর আগে একটি মাটিবাহী ট্রলির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন এবং ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়েও প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন।
ভেকুর ব্যাটারি খুলে নেওয়ার পর আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন তহশিলদারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন প্যানেল চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি আরে বলেন এলাকায় মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি অবগত হলাম। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


