জামালপুর প্রতিনিধি: কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির অন্যতম প্রধান নিয়ামক হলো সার। আর এই সার নিয়ে যখন কোনো অসাধু চক্র কালোবাজারিতে মেতে ওঠে, তখন প্রান্তিক কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। তবে জামালপুরের বকশীগঞ্জে কৃষকের অধিকার রক্ষায় এবং অসাধু চক্রের অপতৎপরতা রুখে দিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় অবৈধভাবে পাচারকালে অভিযান চালিয়ে ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পড়ন্ত বিকেলে উপজেলার বাট্টাজোড় নতুন বাজার এলাকায় এ অভিযানটি পরিচালনা করেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছিল। দুটি অটোরিকশা বোঝাই করে ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার বাট্টাজোড় নতুন বাজার এলাকা দিয়ে পাচার করা হবে- এমন গোপন সংবাদ পৌঁছায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে। খবরটি পাওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামে প্রশাসন।
ইউএনও মুরাদ হোসেনের নেতৃত্বে ওই এলাকায় সরাসরি অভিযান চালানো হয়। সন্দেহভাজন অটোরিকশা দুটি থামিয়ে তল্লাশি চালালে ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার পাওয়া যায়। এ সময় সারের বৈধ কোনো কাগজপত্র বা উপযুক্ত কোনো কারণ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায়, এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল। পরে ঘটনাস্থল থেকেই সারগুলো জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে ইউএনও’র পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম এবং বাট্টাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো. লিটন আকন্দ। প্রশাসনের এমন আকস্মিক ও সফল অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি দেখা গেছে।
সার পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত অভিযানটি পরিচালনা করেছি এবং জব্দকৃত সার কৃষি কর্মকর্তার হেফাজতে দিয়েছি। কৃষকের সার নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। সার পাচারকারী বা কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে আমাদের বিন্দু পরিমাণও ছাড় নেই। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় জনকল্যাণমুখী এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”


