নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী এন আকন্দ কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসায় নিজ ছাত্রীর সঙ্গে শ্রেণিকক্ষেই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে মো. এহসানুল হক নামের এক শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর ঘটনার ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
অভিযুক্ত মো. এহসানুল হক ওই মাদরাসার অনার্স শাখার নন-এমপিও প্রভাষক হিসেবে গত প্রায় আট বছর ধরে কর্মরত ছিলেন।
ভিডিও ফাঁসের পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জানান, গত ২০ আগস্ট মাদরাসার সকল শিক্ষকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা চলছিল। ওই সময় সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে কয়েকজন শিক্ষক দেখতে পান, একটি কক্ষে এক শিক্ষক এবং এক বোরকা পরিহিত নারী অবস্থান করছেন। দৃশ্যটি সন্দেহজনক মনে হলে তারা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষক অভিযুক্ত এহসানুল হককে ডেকে ওই ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফুটেজের প্রমাণ সামনে আসায় একপর্যায়ে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে নেন এবং সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান।
অধ্যক্ষ আব্দুল বাতেন জানান, ঘটনার কিছুদিন পর গত ২৬ আগস্ট শিক্ষক তাকে সেই সিসিটিভি ফুটেজের ডাউনলোড করা ভিডিওটি দেখান। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জেলার অন্যতম প্রাচীন দ্বীনি এই প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা দেখে তিনি হতভম্ব ও ক্ষুব্ধ হয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অনার্স বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যানকে ডেকে আনেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদরাসায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। ওই দিনই শিক্ষকের ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করে দেওয়া হয় এবং তাকে মাদরাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
কঠোর পদক্ষেপের মুখে গত ১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত শিক্ষক মো. এহসানুল হক তার পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন। পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর মাদরাসার শিক্ষকমণ্ডলীকে নিয়ে জরুরি সভা করা হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ আরও জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি মাদরাসার গভর্নিং বডি এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ (এডিসি-শিক্ষা) জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে, যাতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
তবে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিচয় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ধারণা, ওই ছাত্রী অনার্স বা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে পারে। মানসম্মানের ভয়ে ওই ছাত্রী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা জানান, ঘটনা জানার পর মাদরাসার অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকরা মেয়েটিকে সনাক্ত করতে পারেনি। অভিযু্ক্ত শিক্ষককে বিচারের সম্মুখিন না করে চাকুরি থেকে বিদায় দিয়ে দিয়েছে। তা দুঃখজনক ও কাম্য নয়। অধ্যক্ষকে তদন্ত কমিটি গঠন করে ওই শিক্ষককে উপযু্ক্ত শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তবে এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
৬১ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই মাদরাসায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।


