কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া-নেত্রকোনা সড়কের রামপুর এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মামুন মিয়া (২৮) নামের এক ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত হয়েছেন। বিদ্যুতের খাম্বাবাহী একটি লরির সঙ্গে তার চালিত মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক লরিটি জব্দ করেছে এবং এর চালককে আটক করেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরআগে, গতকাল (রবিবার) দিনগত রাত ১১টার দিকে রামপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মামুন মিয়া জেলার পূর্বধলা উপজেলার নারিন্দা ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আটক লরিচালক জসিম উদ্দিন (৩৮) কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের খয়রাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুল মমিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে মামুন মিয়া মোটরসাইকেলে করে কেন্দুয়া থেকে পূর্বধলার দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক একই সময়ে নেত্রকোনা থেকে বিদ্যুতের খাম্বা বোঝায় একটি লরি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। রাত ১১টার দিকে লরিটি রামপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটির সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় মামুন মিয়া মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রামপুর বাজারে নিয়ে গেলে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। দুর্ঘটনার পরপরই লরিটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে।
দুর্ঘটনার খবর মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং লরিটির অবস্থান শনাক্ত করতে তৎপর হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ময়মনসিংহের নান্দাইল চৌরাস্তা এলাকা থেকে চালকসহ ঘাতক লরিটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আজ সকালের দিকে মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘাতক লরিটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক জসিম উদ্দিনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়দায়িত্ব নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


