নিজস্ব প্রতিবেদক: পেশায় কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কেউবা ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, আবার কেউ যুক্ত রাজনীতিতে। সাধারণ মানুষের কাছে যারা সেবক বা সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল মুখ হিসেবে পরিচিত, তারাই কি না গোপনে মত্ত ছিলেন নিষিদ্ধ জুয়ার আসরে! নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আট ব্যক্তি, যারা পুলিশের ঝটিকা অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন।
মোহনগঞ্জ পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার একটি গোপন জুয়ার বোর্ডে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এরআগে গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় তাদেরকে আটক করে থানা-পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো পুলিশের এ অভিযানে আটককৃতদের পরিচয় মেলাতে গিয়ে রীতিমতো চমকে যেতে হয়। আটকদের মধ্যে তিনজনই সরকারি চাকরিজীবী এবং একজন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতা।
চাঞ্চল্যকর এই তালিকায় রয়েছেন- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মো. সোহেল রানা (৪৪), ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার পদে কর্মরত হারুন অর রশিদ ওরফে তরুণুর রশিদ খান (৪৩) এবং নির্বাচন অফিসের কর্মচারী মো. জিয়া উদ্দিন (৪০)। এছাড়া রয়েছেন মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কমল মিয়া (৪৩)।
আটককৃত বাকি চারজন হলেন- টেংগাপাড়া এলাকার মৃত দেওয়ান আবু সোলেমানের ছেলে দেওয়ান কামরুল হাসান সায়েম (৪৩), দৌলতপুরের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী রুবেল (৪৪), পাবই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. আমীন (৪২) এবং ঝিকরওয়ালা গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে মিনামুল (৩৫)।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, টেংগাপাড়ার ওই নির্দিষ্ট স্থানে বেশ কিছুদিন ধরেই টাকার বিনিময়ে জুয়ার আসর বসছিল বলে তাদের কাছে গোপন তথ্য আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে অভিযান চালানো হয় এবং জুয়া খেলারত অবস্থায় আটজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের পেশাগত পরিচয়ের বিষয়ে ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত জুয়া আইনে মামলা দায়ের করে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরাও শুনতে পেরেছি, আটকদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। তবে তারা সত্যিই সরকারি চাকরিতে কর্মরত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বিস্তারিত তদন্তের পর সরকারি কর্মচারী হিসেবে যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে, তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়সহ স্ব স্ব সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমাজের দায়িত্বশীল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার এ ঘটনাটি বর্তমানে মোহনগঞ্জে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


