উত্তরাঞ্চলে তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডালিয়ায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তিনি তিস্তা নদীর নাব্যতা সংকট, পানি ব্যবস্থাপনা ও সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে সরেজমিনে খোঁজ নেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পৌঁছে রাষ্ট্রদূত প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
পরিদর্শন শেষে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সভায় তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ, নাব্যতা সংকট, নদী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে সেচনির্ভর কৃষকদের ওপর সৃষ্ট প্রভাব তুলে ধরা হয়।
পাউবোর কর্মকর্তারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদী ও এর আশপাশের জনপদে নানা ধরনের পরিবেশগত ও আর্থসামাজিক সংকট তৈরি হয়। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত নদী ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরা হয়।
মতবিনিময়কালে তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা ও নদীকে ঘিরে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বিশেষ করে পানি সংকটের কারণে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।
এ সময় স্থানীয় কর্মকর্তারা তিস্তা ব্যারাজের সেচব্যবস্থা, নদীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা শুধু কৃষির জন্য নয়, এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক জীবন ও পরিবেশের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে নদীর পানিপ্রবাহ ও নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


