নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় ‘জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন’ এর নামে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সাগর মিয়া (২৭) বাদী হয়ে আটপাড়া থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন।
আটককৃতরা হলেন- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের মো. আ. হামিদের ছেলে মো. মনিরুজ্জামান মানিক (৪৯), একই উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের মৃত নুরুল আমিনের ছেলে নূরে আলম ওরফে বাবলু (৪২) এবং গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর উপজেলার বাবরাসুর গ্রামের তাহের উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন শেখ (৪৫)।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলার শুনই ইউনিয়নের গোয়াতলা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. সাগর মিয়াসহ এলাকার সহজ-সরল অভাবগ্রস্ত মানুষকে টার্গেট করে প্রতারক চক্রটি। তারা নিজেদের যশোর ভিত্তিক ‘জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন’ এর মাঠকর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। চক্রটি প্রচার করে, ১০ হাজার টাকা জামানত দিলে এক লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হবে, যা ২৩টি কিস্তিতে (মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে) পরিশোধযোগ্য।
লোভনীয় এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গোয়াতলা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির উঠানে এলাকার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ জড়ো হন। সেখানে সাগর মিয়া ১০ হাজার টাকা, মীমা আক্তার পাঁচ হাজার টাকা, সাবিনা ইয়াসমিন পাঁচ হাজার টাকা, রিক্তা আক্তার পাঁচ হাজার টাকা এবং হেলেনা আক্তার দুই হাজার টাকা- সব মিলিয়ে ২৭ হাজার টাকা জামানত হিসেবে চক্রটির হাতে তুলে দেন।
কিন্তু নগদ টাকা হাতে পাওয়ার পর ঋণ প্রদানের কথা বললে অভিযুক্তরা টালবাহানা শুরু করে। তাদের আচরণে ভুক্তভোগীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। একপর্যায়ে প্রতারকরা টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের ঘেরাও করে আটক করে।
পরে স্থানীয়রা আটপাড়া থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন প্রতারককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সাগর মিয়া বাদী হয়ে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টা ২২ মিনিটে আটপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী সাগর মিয়া জানান, অভাব-অনটনের সংসারে সচ্ছলতা আনার আশায় তারা ঋণ নিতে চেয়েছিলেন। প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে উল্টো সর্বস্বান্ত হতে বসেছিলেন। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বাকি টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। আটপাড়া থানা পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আটপাড়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়দুল আলম জানান, বাদীর দায়ের করা প্রতারণা মামলায় আটক তিনজনকে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


