জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর জহুরুল ইসলাম (৬০) নামের এক অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্ব চরপাকেরদহ এলাকায় মাথাভাঙা-তেঘরিয়া সড়কের পাশের ফসলের খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জহুরুল ইসলাম উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের বাকুরচর এলাকার মৃত তছমেল মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদারগঞ্জ পৌরসভার জোনাইল মৃধাবাড়ি এলাকায় নিজ শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রতিদিনের মতোই উপার্জনের তাগিদে নিজের অটোরিকশাটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন জহুরুল ইসলাম। রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে ওই দিন রাত ২টার দিকে গুনারীতলা ইউনিয়নের আমলীতলা ব্রিজের উত্তর পাশে সড়কের ওপর তার অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে জহুরুলের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে অটোরিকশাটি পাওয়া গেলেও জহুরুল ইসলামের কোনো খোঁজ মেলেনি। রাতেই সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিত্যক্ত অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিখোঁজ জহুরুলের ছেলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন।
নিখোঁজের তিন দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্ব চরপাকেরদহ এলাকায় মাথাভাঙা-তেঘরিয়া সড়কের পাশে ফসলের খেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক কৃষক। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফসলের খেত থেকে অর্ধগলিত ওই মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে নিখোঁজ জহুরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিধেয় বস্ত্র ও শারীরিক গঠন দেখে মরদেহটি জহুরুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার তিন দিনের মাথায় আজ দুপুরে জহুরুল ইসলামের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার লাশ শনাক্ত করেছেন। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি।”
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহটির সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


