(নোয়াখালী প্রতিনিধি-)
নোয়াখালীর কবিরহাটে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থ নারীদের জন্য আসা বিশেষ বরাদ্দের বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় নারীদের বঞ্চিত করে এই বরাদ্দের একটি বড় অংশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের স্ত্রী, অবস্থাপন্ন আত্মীয়স্বজন এবং সচ্ছল প্রবাসীদের স্ত্রীদের নামে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে কবিরহাট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ফখরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে উপকারভোগীদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, অতিদরিদ্র, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিশেষ বরাদ্দ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে প্রণীত তালিকায় নাম উঠে এসেছে সমাজের বিত্তশালী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের।
যেসব অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে: বিএনপি নেতাদের স্বজনদের প্রাধান্য: তালিকায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট সচ্ছল। প্রবাসী পরিবারের অন্তর্ভুক্তি: এলাকার বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসীয় ও প্রবাসীর স্ত্রীর নামও এই ‘দুস্থ’ তালিকায় দেখা গেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত সুবিধাভোগী বঞ্চিত: তালিকায় বিত্তশালীদের নাম থাকায় বহু প্রকৃত অসহায়, দিনমজুর এবং দুস্থ নারী সরকারি এই বিশেষ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এলাকার সাধারণ মানুষ ও বঞ্চিত নারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে আমাদের ঘরে দুবেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না, সেখানে কোটি টাকার মালিক ও প্রবাসীদের স্ত্রীদের নাম কীভাবে দুস্থ তালিকায় আসে? এটি গরিবের হক মেরে খাওয়ার শামিল।” স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি ও তালিকা তৈরির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঠিক তদারকি ও সততার অভাবে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগটি ভেস্তে যেতে বসেছে এবং প্রকৃত ও টার্গেটেড জনগোষ্ঠীর কাছে সুবিধা পৌঁছাচ্ছে না।
কবির হাট পৌরসভার বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এত গুলো মানুষের মাঝে দুই একটা ভুল হতে পারে,আমরা চেষ্টা করেছি শতভাগ দুস্থ ও অসহায় নারীদের মাঝে বিতরণ করার চেষ্টা করেছি। অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে কবির হাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সৌরভ হোসেন কামাল অস্বীকার করেন, তিনি ওয়ার্ড় ইউনিয়ন উপজেলার পৌরসভার কোন বিএনপির নেতার কোন সন্ত্রী ও আত্মীয়স্বজন এবং সচ্ছল পরিবারে কেউ পাই নি।
দুস্থদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ও জামায়াত সহ সর্বদলীয় লোকজন ও পেয়েছে বলে জানান তিনি। কবির হাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক কামরুল হুদা চৌধুরী বলেন, উপজেলার ইউনিয়নের ভিত্তিক তালিকা তদারকি আমি করেছি , এই গুলোতে শতভাগ প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় নারীরা পেয়েছে বলেন জানান তিনি । তবে পৌরসভার তালিকা নিয়ে তিনি অবগত নয়।, এটি কবির হাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জুর তদারকি করেছেন বলে জানান তিনি।


