রুহুল আমিন,স্টাফ রিপোর্টার
ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটানো। আর সেই আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো এবারও প্রস্তুত হয়েছে বিশেষ আয়োজনে। টানা সাত দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ঢাকার পার্ক, উদ্যান, চিড়িয়াখানা, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের একটি বড় অংশ রাজধানী ছাড়লেও যারা ঢাকায় থাকবেন, তাদের জন্য শহরের বিনোদনকেন্দ্রগুলো হয়ে উঠবে আনন্দের অন্যতম ঠিকানা। রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, হাতিরঝিল, রমনা পার্ক, ধানমন্ডি লেক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি।
বিশেষ করে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে ঘিরে এবারও ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগমের আশা করছে কর্তৃপক্ষ। ঈদের সময় প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ মানুষ চিড়িয়াখানায় ভিড় করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এবার বাড়ানো হয়েছে টিকিট বুথ ও প্রবেশ লাইনের সংখ্যা। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ও করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হাতিরঝিল এখন শুধু একটি লেক নয়, নাগরিক ক্লান্তি দূর করার অন্যতম আশ্রয়স্থল। ওয়াটার বাস, চক্রাকার বাস সার্ভিস ও মনোরম আলোকসজ্জা ঈদের রাতে হাতিরঝিলকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই সেখানে কাটান স্বস্তির কিছু সময়।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলেও ঈদের ছুটিতে বাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়। ইতিহাস আর বিনোদনের মিশেলে এসব স্থান তরুণদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একইভাবে শিশু-কিশোরদের আনন্দ দিতে শ্যামলীর শিশু মেলাসহ বিভিন্ন পার্কেও রাখা হয়েছে বিশেষ আয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনোদন শুধু অবসর কাটানোর মাধ্যম নয়, ব্যস্ত নাগরিক জীবনে মানসিক প্রশান্তিরও একটি বড় উপায়। তাই ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো হয়ে উঠছে মানুষের মিলনমেলা।
তবে আনন্দের এই আয়োজনে দর্শনার্থীদের সচেতন থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলা, শিশুদের প্রতি নজর রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ আরও সুন্দর ও নিরাপদ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।


