নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পারিবারিক কলহের জেরে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে সাত মাস বয়সী শিশু সন্তান তানভীর আহম্মেদ মোজাইদকে হত্যার অভিযোগে পাষণ্ড পিতা মেরাজ মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে, গতকাল (শনিবার) দুপুর দেড়টার দিকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভৈরব থানাধীন মানিকদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪, সিপিসি-২ (ভৈরব ক্যাম্প) এর একটি আভিযানিক দল।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনার প্রায় ২০ দিন আগে মেরাজ মিয়া ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে সাত মাসের শিশু সন্তান মোজাইদসহ বাবার বাড়িতে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
গত ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে স্বামী মেরাজ মিয়া ও শাশুড়ি রাবেয়া বেগম তাসলিমার বাবার বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয় মানিকদী চৌধুরী বাজারে কেনাকাটার কথা বলে মা ও শিশুকে নিয়ে বের হন তারা। কেনাকাটা শেষে তারা শিশু মোজাইদকে মায়ের কাছে ফেরত না দিয়ে জোরপূর্বক নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর থেকে মা তাসলিমা আক্তার সন্তানের খোঁজ করলেও আসামিরা শিশুটিকে ফেরত না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকেন।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গত ২৩ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে ভৈরব থানাধীন গজারিয়া মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকার গোলাপ মিয়ার ডোবায় সাত মাস বয়সী শিশু তানভীর আহম্মেদ মোজাইদের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরদিন ২৪ এপ্রিল ভিকটিমের মা তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকেই র্যাব-১৪, সিপিসি-২, ভৈরব ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের ধরতে তৎপর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে প্রধান আসামি ও শিশুটির জন্মদাতা পিতা মেরাজকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-১৪ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

