নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আটককৃত চার মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের সহযোগীরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশের আরেকটি দল তিন নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে এক পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৪৬ হাজার ৭৮৫ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১টার দিকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের এতথ্য নিশ্চিত করেন। এরআগে, গতকাল রবিবার দিবাগত দিরাত সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোনা মডেল থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও মডেল থানার ওসি মো. আল-মামুন সরকারের তত্ত্বাবধানে পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে । রাত অনুমান ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আল আমিন (৩২), মো. রাসেল (২৮), মো. বাবুল মিয়া (৪৮) এবং মো. মুবিনকে (২৮) ছয়শো পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ ।
আটকের পর আসামীদের পরিবারের সদস্য টুম্পা আক্তার (২৫), রেজিয়া (৪০) এবং সানিয়া আক্তার (২৫) সহ অজ্ঞাতনামা সাত-আট জন নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি, লোহার রড এবং ধারালো দা নিয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশ হেফাজত থেকে আটককৃত চার আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের আরেকটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলাকারী টুম্পা আক্তার, রেজিয়া এবং সানিয়া আক্তারকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে আটককৃত তিনজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বসতঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আরও চারশো পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
এছাড়াও মাদক বিক্রির নগদ ৪৬ হাজার ৭৮৫ টাকা, দুইটি পুরাতন ল্যাপটপ, বিভিন্ন মডেলের ১২টি পুরাতন বাটন ফোন, একটি অপো স্মার্টফোন এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত দুইটি লোহার রড ও তিনটি লাঠিও জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, আটককৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে তারা চিহ্নিত মাদক ডিলার। পলাতক ও গ্রেফতারকৃত আসামীরা একই পরিবারের সদস্য এবং তারা একে অপরের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন যাবৎ নেত্রকোনা সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকের (ইয়াবা) ক্রয়-বিক্রয় চালিয়ে আসছিল।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
