নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলায় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় এজাহারভুক্ত আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে তাদের নেত্রকোনা জেলা আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহমেদ ও যুগ্ম-আহ্বায়ক সোলাইমান কবির পাপ্পু এবং পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি আইয়ুব আলী।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কৃষক দল নেতা আইয়ুব আলীকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকি দুজনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারের আগে, গতকাল (রবিবার) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি উপজেলা শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহমেদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক সোলাইমান কবির পাপ্পু এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই ওইদিন রাতেই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে নয় জনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন রবিবার আদালত নয় জনের জামিন মঞ্জুর করেন।
গত শুক্রবার বিকেলে হোগলা এলাকায় একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে নামেন এমপি মাসুম মোস্তফা। এ সময় ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল যুবক পাম্পে হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং তার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে এমপি নামাজ শেষে বের হলে তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতা বাবুল আলম তালুকদার, ইউএনও ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
মামলার প্রধান আসামি আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং এটি তার ও দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল (রবিবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পূর্বধলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপি। লিখিত বক্তব্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির ও সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদারসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে এমপির সহকারীর সঙ্গে স্থানীয়দের কথা-কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং পরে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিএনপির নেতারাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন বলে তারা দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।
