নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরের দুটি ভিন্ন অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি রেজাউর রহমান ওরফে রেজা মিয়া (৩২) এবং দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানার নাবালিকা ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. সজিব মিয়া (২১)।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানার ১৪ বছর বয়সী কিশোরী তার নানার বাড়িতে বসবাস করত। গ্রেপ্তারকৃত রেজাউর রহমান তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। পরিবার থেকে নিষেধ করা সত্ত্বেও সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে গত ১৯ মার্চ রাত আনুমানিক ২টার দিকে রেজাউর তার সহযোগীদের নিয়ে কিশোরীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নানি বাদী হয়ে গত ৩ এপ্রিল রাজারহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১৪ (সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল) এবং র্যাব-১৩ (সদর কোম্পানি, রংপুর) এর একটি যৌথ দল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানাধীন মীর দেওয়াহাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল আসামি রেজাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, মো. সজীব মিয়া (২১) নামের অপর এক যুবক দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এলাকার ১৪ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তার পরিবার এ প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সজীব গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে তার সহযোগীদের নিয়ে ভুক্তভোগীকে অপহরণ করে টাঙ্গাইলে নিয়ে আসে। সেখানে হত্যার হুমকি দিয়ে নাবালিকাকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সজীব মিয়া। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সুযোগ পেয়ে পালিয়ে গিয়ে নিজ পরিবারকে বিস্তারিত জানায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে গত ৯ মার্চ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়। মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে র্যাব-১৪ (সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল) এবং র্যাব-১৩ (সিপিসি-৩, গাইবান্ধা) এর যৌথ আভিযানিক দল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় (কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানা) হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
