নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে সিএনজি রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে চালক আবুল কালাম (৪০) হত্যা মামলার আরও তিন পলাতক আসামিকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। নিহত আবুল কালাম ময়মনসিংহ নান্দাইল উপজেলার পূর্ব অরন্যপাশা গ্রামের মৃত আরজ আলীর ছেলে। এরআগে এই হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. শামীম মিয়া (২৮), মো. আব্দুল আজিজ ওরফে লদু মিয়া (৩৫) এবং রবিন মিয়া (২৬)। তারা সবাই নিহত আবুল কালামের প্রতিবেশী এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। দিনব্যাপী র্যাবের যৌথ অভিযানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে র্যাব।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পেশায় সিএনজি চালক আবুল কালামের নিজ বাড়িতে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি প্রতিবেশী ওই আসামিদের উঠানে নিজের সিএনজিটি রাখতেন। পার্কিং নিয়ে আসামিদের সাথে তার বেশ কয়েকবার বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য আবুল কালাম স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে দেখে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
এরই জেরে গত ২৬ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে নান্দাইল চৌরাস্তা বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আবুল কালাম। আসামিদের বসতবাড়ির সামনে পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা তার পথরোধ করে। এরপর তাকে বেধড়ক ও এলোপাতাড়ি মারধর করা হলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন (২৭ জানুয়ারি) নিহতের বড় ভাই মো. ফারুক মিয়া বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-১৪ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশাল কোম্পানি (সিপিএসসি)।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গতকাল সোমবার ময়মনসিংহের র্যাব-১৪ এবং ঢাকার উত্তরা র্যাব-১ এর যৌথ আভিযানিক দল ঢাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালায়। এদিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে শামীম মিয়াকে, বিকেল ৫টায় উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে আব্দুল আজিজকে এবং রাত পৌনে ৯টায় দক্ষিণখান এলাকা থেকে রবিন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
এরআগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১টার দিকে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন নোয়াগাঁও এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। সেখান থেকে এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি আল আমিনকে (৩৫) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারা।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নান্দাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
