ঝালকাঠির জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তদারকি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) আয়োজনে অধিপরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিভিল সার্জন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা দেওয়া বাদ দিয়ে বাইরের ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করার সুযোগ নেই। এ ধরনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সনাকের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সিসি ক্যামেরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে সেখান থেকেই অনলাইনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা একজন কনসালট্যান্টকে পুনরায় সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি সদর হাসপাতালের জন্য নতুন একজন দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সভায় সনাক সদস্যরা স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তদারকি বাড়ানো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে লিখিত নির্দেশনা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। তবে এসব নির্দেশনার বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকায় কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় টিআইবির বিশেষায়িত মোবাইল অ্যাপ ‘প্যাক্টঅ্যাপ’-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পর্যবেক্ষণ এবং সেবাগ্রহীতা ও নাগরিকদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার বিষয়টি জানানো হয়। সনাকের সহযোগী সংগঠন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ এবং অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের (এসিজি) সদস্যরাও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন বলে সভায় জানানো হয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সংস্কার, চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসন, নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কর্মীদের পেশাগত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সনদে সেবার তথ্য ও ফি দৃশ্যমান রাখার দাবি জানান সনাক সদস্যরা।
এ ছাড়া অভিযোগ ও পরামর্শ বাক্স স্থাপন, তথ্য ও অনুসন্ধান ডেস্ক চালু, চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনের সময়সূচি প্রকাশ, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।
এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, স্বাস্থ্যসেবার টেকসই মানোন্নয়নে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে জেলার সব অংশীজনকে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করা হবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বা কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে চিকিৎসক ও জনবল সংকট এবং নতুন ভবন নির্মাণের মতো বিষয়গুলো স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
সনাক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেন গুপ্ত বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সনাকের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হেমায়েত হোসেন।
এ সময় ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, সনাকের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপকমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, সদস্য মো. বজলুর রশিদ, ইয়েস গ্রুপের সদস্য, এসিজির সমন্বয়ক এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।