মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩

কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নদী-নালা ও খাল-বিলের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। একসময় এখানকার গ্রামীণ জলাশয়গুলো নানা জাতের সুস্বাদু দেশীয় মাছে কানায় কানায় ভরপুর থাকত। বর্তমানে এক শ্রেণির অতি মুনাফালোভী মানুষের ব্যবহৃত সর্বনাশা ‘চায়না দুয়ারি’ জালের কারণে আমাদের সেই চিরচেনা দেশীয় মাছের ভাণ্ডার আজ চরম হুমকির মুখে। প্রাণঘাতী এই জালের মিহি ফাঁদে আটকা পড়ে নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে ডিমওয়ালা মা-মাছ ও ছোট পোনা। দেশীয় মাছের করুণ ও নীরব বিলুপ্তি ঠেকাতে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনব্যাপী ঝটিকা অভিযানে নামে প্রশাসন। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা অভিযান চলে। উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের তাম্বুলিপাড়া এলাকা এবং চিরাং ইউনিয়নের কালিয়ানের বিস্তীর্ণ বিলে পৃথক দুটি মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জনগুরুত্বপূর্ণ এসব অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী। সার্বিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুনসহ পুলিশের একটি দল।

দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানে জলাশয়ের তলদেশে পেতে রাখা ৮২টি নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জব্দকৃত এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ ১০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে জনসমক্ষে জালগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে চিরতরে ধ্বংস করা হয়, যাতে এগুলো আর কখনোই কোনো জলাশয়ের বুকে মারণফাঁদ হয়ে ফিরে যেতে না পারে। তবে বিস্তীর্ণ এলাকা হওয়ায় অভিযানে কাউকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

চায়না দুয়ারি জালের ভয়াবহতা সম্পর্কে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সহজভাবে এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে জানান, বিশেষ এই জালের বুনন এতটাই সূক্ষ্ম যে, এতে বড় মাছের পাশাপাশি জলাশয়ের ছোট পোনা এবং ডিমওয়ালা মাছও নির্মমভাবে আটকা পড়ে যায়। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্র পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে যেমন দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধন হচ্ছে, অন্যদিকে জলাশয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা ও সামগ্রিক জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর। ঠিক এ কারণেই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ আইনে এ ধরনের জাল তৈরি, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

আইনত নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কিছু মানুষের অসচেতনতা ও লোভের কারণে বিভিন্ন জলাশয়ে এখনো এসব জালের ব্যবহার দেখা যায়, যা আমাদের জাতীয় মৎস্য সম্পদের জন্য এক অশনিসংকেত। স্থানীয় জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তার স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের জালের ব্যবহার শতভাগ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জাতীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে তাদের এমন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version