নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নে অবস্থিত শতবর্ষী প্রাচীন রানীখং সাধুযোসেফের খ্রিষ্টীয় ধর্মপল্লী। পাহাড় আর সবুজের মিতালিতে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয়ের প্রশান্তি সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায়। ধর্মপল্লীর প্রায় ৪০ কেজি ওজনের ঐতিহাসিক ঘণ্টা চুরি যায় গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) গভীর রাতে। তবে পুলিশি তৎপরতায় মাত্র দুদিনের মাথায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে চুরি যাওয়া সেই ঘণ্টাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ধর্মপল্লী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে ভারী ঘণ্টাটি চুরি করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রার্থনার জন্য ঘণ্টা বাজাতে গিয়ে ধর্মপল্লীর লোকজন দেখতে পান সেটি নির্ধারিত স্থানে নেই। মুহূর্তেই চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
ধর্মপল্লীর ম্যানেজার পলিনুস রুরাম জানান, রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর কোনো এক সময় চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া ঘণ্টাটির ওজন প্রায় ৪০ কেজি এবং এর মূল্য এক লাখ টাকারও বেশি। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ধর্মপল্লী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী উপাসনালয়ে এমন চুরির ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে ধর্মপল্লী থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ-বিজয়পুর সড়কের পাশের ডোবা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশ ঘণ্টাটি উদ্ধার করে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, চুরির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুত মামলা গ্রহণ করে। জেলার পুলিশ সুপারসহ (এসপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান ও তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে চোরচক্র ভারী ঘণ্টাটি খুব বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেনি। বাধ্য হয়ে তারা এটি সড়কের পাশের ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, চুরি হওয়া ঘণ্টাটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চুরি চক্রের কোনো সদস্য এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, শতবর্ষী ধর্মপল্লীতে চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি চুরি যাওয়া ঘণ্টাটি দ্রুত উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ তাগিদ দেন। একইসঙ্গে প্রাচীন ও ঐতিহাসিক উপাসনালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার উদ্যোগে ধর্মপল্লীর চারপাশে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চুরি যাওয়া ঘণ্টা ফিরে পাওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় ধর্মপল্লীর বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


