নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনা সীমান্তে টানা দুই দিন পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় কয়লা, মদ, কম্বল, চিনি ও সাবান জব্দ করেছে বিজিবি। নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে সাত লাখ ৬৭ হাজার চারশো টাকা মূল্যের চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা রুখতে সোমেশ্বরী নদী ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ায় বিজিবি। এদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবানীপুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ১১৫৩ এমপি থেকে প্রায় পাঁচশো গজ ভেতরে বাংলাদেশের সোমেশ্বরী নদী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় পাঁচ হাজার চারশো কেজি ভারতীয় কয়লা জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ আট হাজার টাকা।
ঠিক এক ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিজয়পুর বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ১১৫২ এমপির কাছাকাছি সোমেশ্বরী নদীর আরেক প্রান্ত থেকে আড়াই লাখ টাকা মূল্যের আরও ১২ হাজার পাঁচশো কেজি ভারতীয় কয়লা জব্দ করে। এরআগে, শুক্রবার ভোর ৫টায় একই বিওপির টহল দল পশ্চিম বিজয়পুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার চারশো টাকা মূল্যের ৩৬০ কেজি বাংলাদেশি রসুন জব্দ করতে সক্ষম হয়।
এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিন ও রাতে আরও তিনটি সফল অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। ওইদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে বিজয়পুর বিওপির টহল দল প্রেমবাজার নামক স্থান থেকে দুই লাখ টাকা মূল্যের ৪০ পিস উন্নতমানের ভারতীয় কম্বল জব্দ করে। এছাড়া পাঁচগাঁও বিওপির টহল দল এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সন্ন্যাসীপাড়া এলাকা থেকে ৫১ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভারতীয় কম্বল, দুইশো কেজি চিনি ও আটশো পিস সাবান আটক করে।
একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাঁচগাঁও বিওপির সদস্যরাই সন্ন্যাসীপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এতে এক লাখ আট হাজার টাকা মূল্যের ৭২ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রতিটি অভিযানেই চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে জব্দকৃত সব পণ্যই মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, নিয়ম অনুযায়ী জব্দকৃত ভারতীয় মদ নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এবং কয়লা, কম্বল, চিনি, রসুনসহ অন্যান্য পণ্য নেত্রকোনা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নির্মূলে বিজিবির এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


