কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা থেকে পার্শ্ববর্তী তাড়াইল উপজেলায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার বোঝাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চিরাং-তাড়াইল সড়কের মোজাফরপুর সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় সচেতন কৃষকদের সহায়তায় অটোরিকশাটি আটক করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার সীমান্ত পেরিয়ে তাড়াইল উপজেলায় সার পাচার করা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদ ও সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন স্থানীয় কৃষকরা। পরে চিরাং-তাড়াইল সড়কের মোজাফরপুর সীমান্ত এলাকায় অটোরিকশাটি গতি রোধ করে চ্যালেঞ্জ করেন তারা। এ সময় চালক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কেন্দুয়া থানা পুলিশ। পরে পুলিশ ৩২ বস্তা ডিএপি সারসহ অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সার সংকটের সময়ে সরকারি ভর্তুকির সার এভাবে অবৈধভাবে অন্য উপজেলায় পাচার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, চলতি আমন ও রবি মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের মোক্ষম সময়ে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না তারা। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারগুলোতে অতিরিক্ত চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার একটি বড় অংশ প্রভাবশালী অসাধু ডিলার ও চক্রের যোগসাজশে রাতের আঁধারে বা গোপনে অন্য উপজেলায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মোজাফরপুর এলাকার কৃষক শহিদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, মোজাফরপুর বাজারের সার ডিলার হোসাইন সার পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার হোসাইনের বক্তব্য পাওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সার জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩২ বস্তা ডিএপি সার ও পাচারকাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অবৈধভাবে সার পাচার ও কালোবাজারির সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।




