নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্তবর্তী জনপদ নেত্রকোনার দুর্গাপুরে রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা নতুন কিছু নয়। তবে পুলিশের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে এবার ভেস্তে গেছে পাচারকারীদের সেই কৌশল। লোকচক্ষুর অন্তরালে গ্রামের এক বাঁশঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ২০ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ মাদক উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, গতকাল (সোমবার) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বারমারী লক্ষ্মীপুর গ্রামে অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার দিবাগত রাতেও দুর্গাপুর থানা এলাকায় বিশেষ রাত্রিকালীন টহল (কিউআরটি নাইট ডিউটি) দিচ্ছিল পুলিশের একটি দল। গভীর রাতে হঠাৎ গোপন সংবাদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, বারমারী লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা জনৈক নুর ইসলামের বাড়ির পূর্ব-দক্ষিণ কোণের বাঁশঝাড়ে সন্দেহজনক প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছিল, পাচারের উদ্দেশ্যে কে বা কারা সেখানে মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রেখেছে।
খবরটি পাওয়ার পরপরই টহল দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদকে অবহিত করা হয়। ওসির তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পুলিশের দলটি ওই বাঁশঝাড়ে অবস্থান নেয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বস্তাটির কোনো দাবিদার বা মালিকের দেখা মেলেনি।
পরবর্তীতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আশপাশের এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল (৪২) ও আল মাসুদ (২৫) এবং অভিযানে থাকা দুর্গাপুর থানার এএসআই মো. আব্দুল কাইয়ূম ফকিরের উপস্থিতিতে বস্তাটি খোলা হয়। তল্লাশিকালে প্লাস্টিকের ওই বস্তার ভেতর থেকে সুকৌশলে রাখা ২০টি কাঁচের বোতল উদ্ধার করা হয়। ৭৫০ মিলিলিটার ওজনের কর্কযুক্ত প্রতিটি বোতলের গায়েই ইংরেজিতে ভারতের তৈরি ‘আইস ভদকা’ লেখা ছিল।
পুলিশ জানায়, রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ তালিকা তৈরি করে পরিত্যক্ত আলামতগুলো হেফাজতে নেওয়া হয়। জব্দকৃত প্রতিটি বোতলের আনুমানিক বাজারমূল্য দেড় হাজার টাকা হিসেবে ২০ বোতল মদের মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই মাদক কারবারিরা বস্তাটি ফেলে সটকে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।




