বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০

পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে মানসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে দ্রুত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী।

তিনি বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করা গেলে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে তিনি এসব পরামর্শ দেন।

রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী বলেন, আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো জরুরি। কারণ, প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজারের পরিবর্তে ব্যাংকঋণসহ বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহী হন।

তার মতে, আইপিও অনুমোদন ও তালিকাভুক্তির পুরো প্রক্রিয়া ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু ডিএসই’র কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়েই ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে। এ সময়সীমা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিন করা যেতে পারে। দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা সহজ হবে।

এজন্য সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে চিহ্নিত করে পুঁজিবাজারে পৃথক ‘মার্কেটিং বিভাগ’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। এ বিভাগের মাধ্যমে পিএইচপি গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ ও পারটেক্স গ্রুপের মতো দেশীয় বড় শিল্পগোষ্ঠী এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তালিকাভুক্তির সুবিধা তুলে ধরার পরামর্শ দেন আহমেদ রশিদ লালী।

আইপিও প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পাঁচজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের (সিএ) একটি প্যানেল থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রসপেক্টাস যাচাইয়ের প্রস্তাবও দেন আহমেদ রশিদ লালী। তার মতে, কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি বা সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে তা দ্রুত সমাধান করে ১৫ দিনের মধ্যে ডিএসই বোর্ডে প্রতিবেদন দেওয়া যেতে পারে।

ডিএসই বোর্ড থেকে নথি পাওয়ার পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১০ দিনের মধ্যে পর্যালোচনা শেষ করে শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে। এরপর সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) পাঁচ দিনের মধ্যে লটারি, শেয়ার লেনদেন ও আবেদনকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। এভাবে পুরো তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ব্যয় কমানোরও পরামর্শ দেন আহমেদ রশিদ লালী। তিনি বলেন, একটি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে একাধিক বছরের ব্যালেন্সশিট প্রস্তুতসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর সঙ্গে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নে স্ট্যাম্প ডিউটি, ভ্যাট ও করের মতো অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়। এতে অনেক সম্ভাবনাময় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বহু বছর আগে কেনা জমির হিসাবমূল্য অনেক কম থাকলেও বর্তমান বাজারমূল্যে তা পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়। ফলে তালিকাভুক্তির আগেই উদ্যোক্তার ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। অথচ তালিকাভুক্তির পর কাঙ্ক্ষিত অর্থ পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা যাবে কি না, তার নিশ্চয়তা থাকে না।

এ কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের ওপর আরোপিত স্ট্যাম্প ডিউটি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় মওকুফের বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেন আহমেদ রশিদ লালী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী আইপিও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Share.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ The Mail Bd.. Designed and developed by Saizul Amin.
Exit mobile version