নিজস্ব প্রতিবেদক: সবুজে ঘেরা গারো পাহাড়, স্ফটিক-স্বচ্ছ সোমেশ্বরী নদীর বহমান জলরাশি আর বিজয়পুরের নজরকাড়া সাদামাটির পাহাড়- সব মিলিয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুর যেন প্রকৃতির এক অপরূপ ক্যানভাস। রূপের পসরা সাজিয়ে বসা অপার সম্ভাবনাময় রূপসী দুর্গাপুরকে দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দীপ্ত আহ্বানের মধ্য দিয়ে পালিত হলো বিশ্ব পর্যটন দিবস।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন ও পর্যটন শিল্প উন্নয়ন সমবায় সমিতির যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি উদযাপিত হয়। দিনের শুরুতেই উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের করা হয় আনন্দ র্যালি। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের কর্মী, পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পা মেলান।
র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদের ‘সোমেশ্বরী হলরুমে’ প্রাণবন্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়। পর্যটন সংগঠনের সভাপতি দিলোয়ার হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিনের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বিজন কান্তি ধর।
স্থানীয় বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সভাটি হয়ে ওঠে দুর্গাপুরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের এক দারুণ মেলবন্ধন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজেদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ জিন্নাহ, সহ-সভাপতি এম. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোহন মিয়া এবং স্থানীয় কবি সজীম শাইন।
আলোচনা সভায় বক্তাদের কণ্ঠে দুর্গাপুরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের বন্দনা ফুটে ওঠে। তারা বলেন, মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলাটি ভৌগোলিক বৈচিত্র্যে সত্যিই অনন্য। প্রকৃতির অকৃপণ দানে এখানকার রূপালী জলের নদী আর সবুজ পাহাড়ের মিতালী যে কারো হৃদয় কাড়তে বাধ্য। বিশেষ করে বিজয়পুরের চীনামাটির টিলা বা সাদামাটির পাহাড় পর্যটকদের কাছে এক পরম বিস্ময় ও প্রধান আকর্ষণ।
তবে মুগ্ধতার পাশাপাশি আক্ষেপের সুরও শোনা যায় বক্তাদের কণ্ঠে। তারা জানান, প্রকৃতির এত অপরূপ সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য থাকার পরও দুর্গাপুরের পর্যটন সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি বিকশিত হতে পারেনি। এর পেছনের প্রধান অন্তরায় হলো অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন। যদি উন্নত ও নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ, পর্যটকদের জন্য মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা এবং নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা তৈরি করা যায়, তবে দুর্গাপুর খুব সহজেই দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
প্রকৃতির এই অপরূপ লীলাভূমিকে আধুনিক ও পর্যটক-বান্ধব অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে আলোচনা সভা থেকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিশেষ করে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন বক্তারা।
সঠিক পরিকল্পনা আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সোমেশ্বরীর তীরের দুর্গাপুর হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র- এমন প্রত্যাশাতেই শেষ হয় বিশ্ব পর্যটন দিবসের এই আয়োজন।




