নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এক অসহায় বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গত ১৬ সেপ্টেম্বরের হলেও প্রভাবশালীদের চাপে দীর্ঘ ১০ দিন বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে ছিল। অবশেষে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ওই নারীকে উদ্ধার করে নিজেদের নিরাপদ হেফাজতে নিয়েছে। একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীর প্রতি এমন অমানবিক ও জঘন্য অপরাধের ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারী জন্মগতভাবেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারীর আট মাস বয়সী সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে প্রতিবেশী মো. আউয়াল ওরফে রবিন (২৪) ওই নারীকে একা পেয়ে ফুঁসলিয়ে একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে। তবে বিষয়টি দ্রুতই প্রতিবেশীদের নজরে আসে এবং তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।
মূল অভিযুক্ত মো. আওয়াল ওরফে রবিন (২৪) উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন তালুকদার ওরফে কামাল মেম্বারের ছেলে। এলাকায় তাদের ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং সহজ-সরল হওয়ায় ঘটনার পর তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা ও আতঙ্কে ভুগছিলেন। এই অসহায়ত্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কামাল মেম্বার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। ফলে ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও শুরুতে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে অনেকটা বাধ্য হয়েই বিচারের আশায় পুলিশের দ্বারস্থ হয় ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রতিবেদককে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাতেই ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে আনা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তার আইনি ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার অংশ হিসেবে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রবিন মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তবে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




