নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়া এবং সরাসরি প্রত্যাখ্যানের কষ্ট সইতে না পেরে মহসিন আল নাঈম (১৭) নামে এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত মহসিন আল নাঈম দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মতিউর রহমান ও মারুফা আক্তার দম্পতির ছেলে। তবে তারা বর্তমানে দুর্গাপুর পৌরসভার সাধুপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। এরআগে, গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাতে দুর্গাপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাধুপাড়া এলাকায় নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাদরাসা পড়ুয়া মেয়ের সাথে নাঈমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যেহেতু ছেলেটির বয়স মাত্র ১৭ বছর এবং মেয়েটিও অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাদের বিয়ের বিষয়টি সম্ভব ছিল না। এর মধ্যেই ওই মেয়ের পরিবার মেয়েটির অন্যত্র বিয়ে ঠিক করে। বিয়ের বাজার করার সময় গতকাল (সোমবার) দুর্গাপুরে ওই কিশোরের সাথে মেয়েটির দেখা হয়। সেখানে মেয়েটি তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলে নাঈম মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়ে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ নিহতের মায়ের বরাত দিয়ে জানান, ওইদিন বাড়িতে ফিরে নাঈম তার মাকে সব ঘটনা খুলে বলে। এরপর সে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং একপর্যায়ে গলায় সাদা রঙের প্লাস্টিকের রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে (রাত ১২টার দিকে) তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, নিহতের মা এ ঘটনার জন্য প্রেমিকা ও তার বাবাকে (ইউপি সদস্য) দায়ী করে তাদের ফাঁসি বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে আজ (মঙ্গলবার) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




