নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘নিউট্রিশন স্মার্ট কমিউনিটি প্রজেক্ট’-এর জেলা পর্যায়ের উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি) এই কর্মশালা ও সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নিয়ে বিশেষ ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করে।
এতে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জাম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবনমানকে মর্যাদাপূর্ণ স্তরে উন্নীত করতে হলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”
পুষ্টিহীনতাকে দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সুবিধাভোগী পরিবারগুলো স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিকভাবে দারুণ উপকৃত হবে। এ সময় তিনি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জার্মান কো-অপারেশনের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েল্টহুঙ্গারহিলফে’ (ডব্লিউএইচএইচ) ও ‘ওয়েভ ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ অংশীদারিত্বে নেত্রকোনা জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এফআইভিডিবি।
কর্মশালায় জানানো হয়, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, বসতবাড়ির আঙিনায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে টেকসই পুষ্টি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর আয়ের পথ সুগম করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও প্রকল্পটি কাজ করবে।




