নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যখন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নাগরিক সেবার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার, ঠিক তখনই নেত্রকোনায় উন্মোচিত হলো অভিনব এনআইডি জালিয়াতির ঘটনা। একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও ঠিকানার অসংখ্য ভুয়া এনআইডি কার্ড। এমন সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেয়েছে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল এনআইডি কার্ড ও ডিজিটাল প্রমাণাদিসহ এক তরুণকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এতথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এ অভিযানটি পরিচালনা করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা মডেল থানার অন্তর্গত পৌরসভার পুরাতন কোর্ট রোডের দত্ত মার্কেটে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে ডিবির আভিযানিক দলটি মার্কেটের ‘সিদ্দিক কর্ণার ভ্যারাইটিস স্টোর’ নামক দোকানে অবস্থান নেয়।
সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় জালিয়াতির মূল কারিগর রবিউল ইসলাম রনিকে (২১)। রনি টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানাধীন গাংগাইর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম ও মোছা. রুমা ইসলাম দম্পত্তির ছেলে।
উদ্ধারকৃত আলামত ও অভিনব জালিয়াতি তল্লাশিকালে গ্রেফতারকৃত তরুণের ডান হাত থেকে ‘এ-ফোর’ সাইজের কাগজে প্রিন্ট করা সাত কপি জাল জাতীয় পরিচয়পত্রের সামনের অংশ এবং ছয় কপি পেছনের অংশ উদ্ধার করা হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রতিটি কার্ডে একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হলেও নাম, পিতার নাম, জন্মতারিখ, আইডি নম্বর ও ঠিকানা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
শুধু প্রিন্ট করা কপিই নয়, জালিয়াতির শিকড় যে আরও গভীরে, তার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে আসামির মোবাইল ফোনে। পুলিশ রনির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে এর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট (০১৭৬৮১০৭৬৮৯) যাচাই করে সেখানে দেখা যায়, অন্য একটি নম্বরে (০১৮১৪০৫৩০৯০) জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত অন্তত ৮০টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সফটকপি পাঠানো হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটিতেও একই ছবি, কিন্তু ভিন্ন আইডি নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং সকল আলামত জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের শেষে আজ (বুধবার) আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো স্পর্শকাতর নথির এমন ব্যাপক জালিয়াতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব ভুয়া কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি, অবৈধ সিম রেজিস্ট্রেশনসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।




