জামালপুর প্রতিনিধি: পরিবেশ দূষণ রোধ ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় একটি অবৈধ ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট)। অভিযানে পরিবেশ ছাড়পত্রহীন এবং অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ইটভাটার নিষিদ্ধ ‘ফিক্সড চিমনি’ ও কিলন (চুল্লি) সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, জামালপুর জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে মেলান্দহ পৌরসভার ফুল চেন্নাই এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ পৌরসভার ফুল চেন্নাই এলাকায় সরকারি নিয়মনীতি ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে ‘মেসার্স মুন্না ব্রিকস’ (যাহার অপর নাম মেসার্স শেখ ব্রিকস্) নামক ইটভাটা পরিচালিত হয়ে আসছিল। ভাটাটিতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিষিদ্ধ ফিক্সড চিমনি ব্যবহার করে ইট পোড়ানো হচ্ছিল, যা আশপাশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি আমলে নিয়ে বুধবার সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায় প্রশাসন। এ সময় এসকেভেটর (ভেকু) দিয়ে অবৈধ ওই ইটভাটার চিমনি ও কাঁচা ইট পোড়ানোর কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ভাটাটির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে পরিবেশ অধিদপ্তর জামালপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এ. কে. এম. ছামিউল আলম কুরসি, পরিদর্শক সঞ্জিত বিশ্বাসসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ. কে. এম. ছামিউল আলম কুরসি বলেন, “অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ফিক্সড চিমনিযুক্ত ইটভাটাগুলো পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। যারা সরকারি আইন অমান্য করে এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছেন, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের এ ধরনের আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে মোবাইল কোর্টে অংশ নেয় জামালপুর সদর ও মেলান্দহ থানা পুলিশের দল। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মেলান্দহ এর সদস্যরাও অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
প্রশাসনের এমন জোরালো পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকার কৃষিজমি ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ছিল। প্রশাসনের এমন নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




