জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ ও এর চিকিৎসা কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং কার্যকর করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের মতবিনিময় ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান আলোচক হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বাগত সাহা, জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত সুধীজন।
সভায় বক্তারা এইচআইভি/এইডস-এর ভয়াবহতা, বিস্তারের কারণ এবং এর প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক তার বক্তব্যে বলেন, “এইচআইভি একটি মারাত্মক ব্যাধি হলেও সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
সভায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, এইচআইভি সংক্রমণ থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে ধর্মীয় অনুশাসন ও সুস্থ-নৈতিক জীবনযাপন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করার ওপরও জোর দেন বক্তারা। বিশেষ করে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তিরা এইচআইভি সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন বিধায়, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে পরিবারের সদস্যদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়াও সভায় এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়। বক্তারা জানান, কেউ এইচআইভি আক্রান্ত হলে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন না করে, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন ও সঠিক নিয়মকানুন মেনে চললে আক্রান্ত ব্যক্তিও দীর্ঘকাল সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
মতবিনিময় সভার শেষাংশে উপস্থিত বক্তারা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কার্যকর ভূমিকা পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান।
সভায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ের কর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




