নিজস্ব প্রতিবেদক: অধীনস্থ এক কর্মকর্তার দুর্নীতি ও সাময়িক বরখাস্তের খবরের পাশাপাশি নিজের বদলির সংবাদ এবং ছবি প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক সাংবাদিককে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন নেত্রকোনার সাবেক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (বর্তমানে ঢাকার ভারপ্রাপ্ত সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক) মো. মোয়েতাছেমুর রহমান। দৈনিক আজকের প্রত্রিকার নেত্রকোনা প্রতিনিধি সাইফুল আরিফ জুয়েলকে তিনি ‘স্টুপিড’ আখ্যা দিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন।
এমন কথোপকথনে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জেলা পর্যায়ে প্রথম সারির ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার এমন অপেশাদার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, বদলিকৃত খাদ্য কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েলকে ফোন করে ক্ষিপ্ত স্বরে বলেন, “আমার নামটা জড়াইয়া নিউজটা করলেন, কী পাইলেন? আমার বদলি নরমাল ওয়েতে হইছে। আমার ছবিটা দিয়া নিউজটা করাতে আপনার কী প্রফিটটা হইছে?”
উত্তরে সাংবাদিক জুয়েল বিনয়ের সঙ্গে জানতে চান, সংবাদের কোথাও তার (কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে মিথ্যা বা মন্দ কিছু লেখা হয়েছে কি-না। তখন কর্মকর্তা স্বীকার করেন, তার বিরুদ্ধে মন্দ কিছু লেখা হয়নি, তবে তার বদলির খবরটি কেন দুর্নীতির খবরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে ওই কর্মকর্তা সাংবাদিককে বলেন, “আপনার মতো স্টুপিড মানুষ এই কাজটা করছে! ভদ্রলোক তো, অহন আপনারে তো আর শূয়োরের বাচ্চা কইয়া গালি দেওন যাইত না।”
অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের শিকার সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা তথ্যবহুল এবং প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশ করেছি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা সংবাদের কোনো ভুল ধরতে পারেননি, বরং বদলি হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি এই গালিগালাজ করেছেন। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ফোনে ‘স্টুপিড’ বলা বা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা সম্পূর্ণ শিষ্টাচারবহির্ভূত।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকাশিত সংবাদে যদি কোনো তথ্যগত ভুল বা অসঙ্গতি থাকত, তবে তিনি পত্রিকা অফিসে লিখিত প্রতিবাদ জানাতে পারতেন অথবা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতেন। তা না করে তিনি যে আচরণ করেছেন, তা কর্মকর্তার পদের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।” এমন অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. মোয়েতাছেমুর রহমান ফোনালাপে প্রতিবেদককে গণমাধ্যমকর্মীকে গালিগালাজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে যে নিউজ করেছে- মানে, হয়তো আমি রাগের মাথায় বলছি। আন্দাজে নিউজ করা কি উচিত?”
এরপর প্রতিবেদক তাকে প্রশ্ন করেন, “যেহেতু আপনি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আপনার বিরুদ্ধে কিছু লেখা হলে আইনের প্রতিকার আছে। পত্রিকা অফিসে প্রতিবাদ দেওয়া যায়। তা না করে একজন সাংবাদিককে ‘স্টুপিড…’ গালি দেওয়া যায় কি-না?” এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে ওই কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল সংযোগটি কেটে দেন।
সম্প্রতি নেত্রকোনা দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ করে বিল দেওয়ার অভিযোগে গত ৩১ আগস্ট সাময়িক বরখাস্ত করে খাদ্য অধিদফতর।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সদ্য বদলিকৃত এই কর্মকর্তা জুয়েলের কাছে দাবি করেন, গুদাম কর্মকর্তার বরখাস্তের সঙ্গে তার বদলির কোনো সম্পর্ক নেই, এটি একটি নিয়মিত বদলি। গণমাধ্যমে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং মোয়েতাছেমুর রহমানের বদলির খবর ও ছবি একসঙ্গে প্রকাশ করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।




