নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে অভিযান চালিয়ে অভিনব কায়দায় ওষুধের মোড়কে বহনকালে দুইশো পিস নেশাজাতীয় ‘টাপেন্টাডল’ ট্যাবলেটসহ ব্রাজিল দলের এক সমর্থকসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের পুলিশ মোড় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃত যুবকদ্বয় হলেন- দুর্গাপুর উপজেলার পলাশককান্দি গ্রামের মো. রুকন মিয়ার ছেলে মাজাহারুল ইসলাম (২২) এবং একই উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ও ব্রাজিল দলের জার্সি পরিহিত মো. রাসেল ওরফে বাবু (২১)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পৌর শহরের পুলিশ মোড় বাসস্ট্যান্ডের নিকটবর্তী একটি মাংস বিক্রির দোকানের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন ওই দুই যুবককে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুলিশ তাদের শরীর তল্লাশি করে। তল্লাশিকালে তাদের পকেট থেকে মাদকের প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা হলে আটকরা সেগুলো নিজেদের নয় বলে দাবি করে। তারা উপস্থিত পুলিশ ও জনতাকে বিভ্রান্ত করার জন্য জানায়, অন্য কোনো এক ব্যক্তি এই প্যাকেটগুলো তাদের কাছে সাময়িকভাবে রাখতে দিয়েছিল।
তবে এসআই মো. জাকির তাদের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দেন। তিনি উপস্থিত জনতার সামনে সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে ধরে নিশ্চিত করেন, মাদকগুলো সরাসরি ওই যুবকদের পকেট থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে সাক্ষী রেখে উদ্ধারকৃত মাদকের বিবরণ দেন। তিনি উপস্থিত সবার সামনে প্যাকেটগুলো গণনা করেন। গণনায় দেখা যায়, সেখানে ২০টি পাতা (স্ট্রিপ) রয়েছে এবং প্রতিটি পাতায় ১০টি করে ট্যাবলেট আছে। অর্থাৎ ওই দুই যুবকের কাছ থেকে দুইশো পিস নেশাজাতীয় ‘টাপেন্টাডল’ ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে মাদক কারবারিরা ইয়াবা বা অন্যান্য পরিচিত মাদকের বদলে ওষুধের মতো দেখতে এ ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট (টাপেন্টাডল) পাচারের নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণ ওষুধের মতো এক পাতায় ১০টি করে ট্যাবলেট থাকায় সাধারণ মানুষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহজেই ফাঁকি দেওয়া যায় বলে অপরাধীরা মনে করে। দেখলে মনে হবে সাধারণ কোনো রোগের ওষুধ খাচ্ছে, বাস্তবে তারা এটিকে ইয়াবার বিকল্প হিসেবে নেশার কাজে ব্যবহার করছে। এটি মাদক পাচার ও সেবনের নতুন চক্রান্ত ও ফাঁদ।”
ঘটনাস্থলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ সদস্যরা আটককৃতদের জব্দকৃত মাদকসহ থানায় আসে। প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের এমন অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ। এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।



